অর্থনীতি

কৃষি ঋণে খেলাপি সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা

কৃষি খাতে বাড়ছে ঋণ বিতরণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষি ও পল্লী ঋণ বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রথম তিন মাসে বিতরণ হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৪২ কোটি টাকা কম।

এদিকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি দাঁড়িয়েছে এ খাতে খেলাপি বা মন্দ ঋণের পরিমাণ। যার প্রায় ৯৫ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। প্রতিবেদন অনুযায়ী এ পর্যন্ত সরকারি ব্যাংকগুলোর ২৯ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি রয়েছে ৫ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ৯ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকার কৃষি ঋণের বিপরীতে খেলাপি হয়েছে ২৪৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি এবং ব্যাংকগুলোর উদ্যোগের কারণে কৃষি ঋণ বিতরণ বাড়ছে। তবে বিভিন্ন সময় অনিয়মের মাধ্যমে দেয়া ঋণগুলো খেলাপি হচ্ছে। এ ছাড়া বন্যা, নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণেও ঋণ সঠিক সময়ে আদায় হচ্ছে না, এতে বেশ কিছু ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন কৃষি ঋণ বিতরণে বেশি মনোযোগী হচ্ছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ঋণ বিতরণ করছে। এ ঋণ বিতরণে দু-একটা অনিয়ম হলেও গুণগতমান বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।

তথ্য মতে, কৃষি ঋণের খেলাপিতে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ব্যাংকটির ২ হাজার ২১৫ কোটি টাকা এখন খেলাপি। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকে এক হাজার ৫৭৭ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ৮৯৩ কোটি, জনতা ব্যাংকে ৪৭৭ কোটি এবং অগ্রণী ব্যাংকের ২১২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের শীর্ষে রয়েছে উত্তরা ব্যাংক। এ ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকা খেলাপি হয়েছে। এ ছাড়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ১২ কোটি, ন্যাশনালের ৬ কোটি ৯৪ লাখ, ঢাকা ব্যাংকের ৬ কোটি ৮৫ লাখ, এবি ব্যাংকের ৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এখন খেলাপি।
তথ্য মতে, আলোচিত সময়ে দেশি-বিদেশি খাতের ৮টি ব্যাংক এ অর্থবছরে কৃষি খাতে কোনো ঋণ বিতরণ করেনি। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি ব্যাংক আল ফালাহ, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং ওরি ব্যাংক। এ ছাড়া মধুমতি এবং সীমান্ত ব্যাংক কোনো ঋণ বিতরণ করেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ পল্লী অঞ্চলে বিতরণ করতে হবে। পল্লী অঞ্চলে অর্থ সরবরাহের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা ও খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টিতে সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করে। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যবস্থা চালু করে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে অনার্জিত লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখার নিয়ম রয়েছে।

 

দেশরির্পোট/রবিন


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন