জাতীয়

একনেক সভায় ২৮টি প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২৮টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এরমধ্যে সরকারের তহবিল থেকে প্রকল্পগুলোতে ২৪ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দাতাদের থেকে ঋণ ও অনুদান হিসেবে আসবে ৪ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সংস্থার অর্থায়ন থাকছে ৫৩৯ কোটি টাকা। এ নিয়ে বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে এক হাজার ৩৯০টি প্রকল্প অনুমোদন পেল।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা-পরবর্তী পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের অনুমোদিত প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, মূল একনেক সভায় ২০টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। দেশের মানুষের জন্য বিশেষ জরুরি বিবেচনায় আরও ৮টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘পরিকল্পনা কমিশন অনেক গতিশীল হয়েছে, যে কারণে প্রয়োজনীয় সকল প্রকল্প অনুমোদন করা সম্ভব হলো। আরও কিছু প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু সামনে নির্বাচন। আমাদের নির্বাচন করতে হবে। আর একনেক হবে না তা বলা হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের কারণে সময় পাওয়া যাবে কি-না তার নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধিতে সাংঘর্ষিক না হলে একনেক সভা হতে পারে। সাংঘর্ষিক হলে তা করা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বলে থাকেন সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প অনুমোদন করছে। অবশ্যই সরকার তা করছে। কারণ, সরকার রাজনীতি করে জনগণের, দেশের উন্নয়নের জন্য। যেসব প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে তা সবই দেশের ও মানুষের স্বার্থে করা হয়েছে। এখন রফতানি বাড়ছে। এর পেছনে সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফল। সরকারের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে চলতি অর্থবছর শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ হবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এত উন্নয়ন করেছে যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দিতে গেলে মানুষের হাত কাঁপবে।’

বুধবার একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে নেত্রকোনায় প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গবেষণা করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়াতে ২৬৩ কোটির প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। ৩ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ প্রকল্প। এক হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরে বহদ্দারহাট বাড়ৈপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চা বাগান কর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। ৭৪৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্থাপন, ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে মাদারীপুরে সরকারি অফিসগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সারাদেশে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খননে নেওয়া প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, র‌্যাব ফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে ১ হাজার ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, সোনাগাজী ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ৭৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ, চট্টগ্রামে ৩৬ পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি চাকুরদের আবাসিক ফ্ল্যাট, আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ বিশেষ ধরনের পন্টুন নির্মাণ, বৃহত্তর নোয়াখালীর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, বৃহত্তর রাজশাহীর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রোহিঙ্গাদের জন্য বহুমুখী সেবা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

 

দেশরির্পোট/আকিব


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন