জাতীয়

বিজয়ের মাসে চলে গেলেন বীর প্রতীক তারামন বিবি

বিজয়ের মাসের প্রথম দিনেই চলে গেলেন বীর প্রতীক তারামন বিবি। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার কাচারিপাড়া গ্রামে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভুগছিলেন।

শনিবার (১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জানাজা শেষে নিজ বাড়ির আঙিনায় চির নিদ্রায় শায়িত হবেন এই বীর কন্যা। তারামন  বিবির ছেলে আবু তাহের এবং রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আবু তাহের জানান, কয়েক বছর ধরে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন মা। দুই সপ্তাহ আগে এই সমস্যা প্রকট আাকার ধারণ করে। পরে তাকে ময়মনসিংহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে  ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে গত সপ্তাহে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সেবার কোনও ঘাটতি ছিল না।

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এবার ঢাকা সিএমএইচ এ নেওয়ার পর মা সেখানে থাকতেই চাচ্ছিলেন না। বাড়িতে ফেরার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনি। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর)  রাত ১০টার দিকে মায়ের অসুস্থতা বাড়তে থাকে। রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. দেলোয়ার হোসেন এসে মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে যান। তবে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাত দেড়টার দিকে মা আমাদের ছেড়ে চিরকালের মতো চলে যান। সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।’

রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, শনিবার বেলা ২টার দিকে তারামন বিবির নিজ বাসভবনে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে। জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, জেলা পুলিশ সুপার মেহেদুল করিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণ জানাজায় অংশ নেবেন।

বীর প্রতীক তারামন বিবি ১৯৫৭ সালে রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তার আসল নাম তারামন বেগম। তার বাবার নাম আবদুস সোহবান এবং মায়ের নাম কুলসুম বিবি। তার স্বামীর নাম আবদুল মজিদ। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নম্বর সেক্টরের হয়ে তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীর জন্য রান্না,তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা এমনকি প্রতিবন্ধী সেজে পাকিস্তানি বাহিনীর খবর সংগ্রহ করতেন। তিনি অস্ত্র হাতে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীন রৌমারী রণাঙ্গনের কোদালকাটির সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তার হাতে তুলে দেন। সরকার কুড়িগ্রাম শহরের উপকণ্ঠে হোলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ীতে জমি দেয়। ২০০৭ সালে সেখানে একটি আধাপাকা বাড়ি তৈরি করেন তৎকালীন কুড়িগ্রাম বিডিআরের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুমন বড়য়া। তবে তিনি নিজ গ্রাম রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুরের কাচারিপাড়ার বাড়িতেই স্বজনদের সঙ্গে বেশিরভাগ সময় কাটাতেন।

 

সিএসজি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন