সাহিত্য

ছেলেরা সহজেই কাঁদেনা-নাহিদ করিম!

ছেলেদের জন্য আমার ভীষণ দুঃখ হয়৷ কেন জানি মনে হয় জগতে ছেলেরাই সবচেয়ে বেশি দুঃখী৷ কেন বলছি..? আমরা মেয়েরা চাইলেই ছোটকালে বাবা/ভাই, যৌবনে স্বামী ও বৃদ্ধকালে সন্তানের উপর ভরসা করে নির্ভাবনায় একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারি৷ অন্যদিকে একটা ছেলের জীবনে অনেক প্রিয়জন, শুভাকাঙ্ক্ষী থাকলেও কখনো এমন কেউ থাকেনা যার উপর ভরসা করে সে নির্ভাবনায় একটা জীবন কাটিয়ে দিবে৷ তারা সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে ঘাম ঝরায় প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফুটাবে বলে৷ আবার আমরা সারাদিনে বাবা, ভাই, স্বামী, ছেলে রূপী মানুষগুলোর কাছে নিজেদের শখ আহ্লাদের কথা নির্দ্বিধায় জানিয়ে দেই৷ অথচ কখনো তাদের শখ, আহ্লাদ ও স্বপ্নের কথা কেউ জানতে চায়না৷ আহা কি স্বার্থপরতা।

আমার মনে হয়, জন্মের সময় ছেলেরা কপালে একটা বাক্য নিয়ে পৃথিবীতে আসে, যেখানে লিখা থাকে “সারাজীবন চাপে থাকবি”৷ মস্তিষ্কে “দায়িত্ব ও কর্তব্য” নামক শব্দের দখলে নিজের জীবনটাকে নিজের মত চালানোর সুযোগটাও তাদের অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়৷ আহা কি জীবন।

ছেলেদের জন্য আমার ভীষণ মায়া হয়৷ কেন জানি মনে হয় ছেলেরাই সবচেয়ে বেশি দুঃখী৷ মানুষ দুঃখ পেলে কাঁদে, মেয়েরা অল্পতেই কাঁদে, কিন্তু ছেলেরা?

একটা ছেলে তার সব দুঃখ-কষ্ট বুকে চেপে রাখে, কাউকে দেখাতে চায় না৷ বুকে কষ্ট চাপা রেখে হেসে বলে ‘ভালো আছি’৷ দেখে মনে হবে যেন সেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখী৷ তার কষ্টের সীমাও অতিক্রম করে যখন শত চেষ্টার পরেও প্রিয়মুখে হাসি ফুটাতে ব্যর্থ হয়, আর তখনই তাদের দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে৷ এখানেও তাদের শান্তি নেই, কেননা “ছেলেদের নাকি কাঁদতে নেই”৷ তাই তাদের কাঁদতেও হয় মুখ লুকিয়ে; রাতের আঁধারে, পাছে কোন লোক তার কান্না বুঝে ফেলে৷

তাই ছেলেরা সহজেই কাঁদেনা, কিন্তু যখন কাঁদে সেটাকে নিছক অশ্রুজল ভাবলে ভুল হবে; সেই অশ্রুগুলো তাদের চরম অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ৷

 

দেশরির্পোট/জেসু


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন