আইন-আদালত

একজন সরকারী কর্মকর্তা’র একশ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়ে দূদকে চিঠি

গত ৬ই মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে মঞ্জুরুল ইসলাম চিশতী নামের এক ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা মুনশী রুহুল আমিন এবং তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা হিমালী’র নামে ঢাকা শহরে একশত কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল অংকের টাকার তথ্য দিয়ে একটি অভিযোগ পত্র দায়েরের প্রায় তিন সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি নয়ে তদন্তই শুরু করেনি দূদক।

‘দুর্নীতি পরায়ন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর নামে ঢাকা শহরে প্রায় এক শত কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ প্রসঙ্গে’ শিরোনামের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত মুনশী রুহুল আমিন বেশ কয়েক বছর আগে আমদানী ও রপ্তানী প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবন, ১৬ তলা, ৬২/৩ পুরানা পল্টন, ঢাকা’র নিয়ন্ত্রক হিসেবে অবসরে যান। উক্ত পদে চাকরীতে থাকাকালে তিনি সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক বনে যান। তাঁকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে কিংবা তাঁর সাথে সরাসরি পার্টনারশিপের ভিক্তিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী উক্ত দপ্তর থেকে ইস্যুকৃত লাইসেন্সের মাধ্যমে মিথ্যা ডিক্লারেশন দিয়ে নানা ধরণের অবৈধ পন্যসহ মাদকদ্রব্যও আমদানী-রপ্তানী করেছে। মুনশি রুহুল আমিনের এসব অপকর্মের প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন কন্টিনেন্টাল ইন্সপেকশন কোম্পানীর মালিক এম এম উল্লাহ নামীয় এক ব্যক্তি।

ইতোপূর্বে মুনশি রুহুল আমিন এবং তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা হিমালী’র অবৈধ সম্পদের বিষয়ে যতোবারই দূদক তদন্ত শুরু করেছে, ততোবারই তিনি ও তাঁর সন্দরী স্ত্রী তদন্তকারীদের নানাভাবে ‘ম্যানেজ’ করেছেন বলে ওই দম্পতি প্রকাশ্যেই বলে বেড়ান। ঢাকা শহরেই এই ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রীর নামে অবিশ্বাস্য বিপুল পরিমান অবৈধ স্থাবর সম্পদসহ বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে কোটি-কোটি টাকা গচ্ছিত থাকার পরও এদের বিরুদ্ধে আজ অবধি কোনও ব্যবস্থাই গৃহীত হয়নি।

দূদকে দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে মুনশি রুহুল আমিন এবং তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা হিমালী’র যেসব সম্পদের আংশিক বিবরন দেয়া আছে সেগুলো হলোঃ

পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় ৫ কাঠার আবাসিক প্লট, প্লট নং ১২, রোড নং ৪, ব্লক সি, পূর্বাচল আবাসিক এলাকা, রুপগঞ্জ; রামপুরা মহানগর এস্টেটে ৬ তলা ভবন, বাড়ী নং ৩৭, রোড নং ১, ব্লক এ, মহানগর, রামপুরা, ঢাকা; উত্তরা আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবন, বাড়ী নং ২০, রোড নং ১০, সেক্টার ১৪, উত্তরা, ঢাকা; ইস্টার্ন গার্ডেন, বিল্ডিং নং ২, ফ্ল্যাট নং ২, পঞ্চম তলা, শান্তিনগর, ঢাকা; ইস্টার্ন সার্কিট, ফ্ল্যাট নং ৩/২০১, দ্বিতীয় তলা, ৩০ শান্তিনগর, ঢাকা; বাড়ী নং ২২১, রোড নং ১/২, উত্তর হাজিপাড়া, ঢাকা; বাড্ডা, মৌজা সাতারকুল, ২ নং সিটে ৩ বিঘা জমি; বাড়ী নং ১৯, রোড নং ২, ব্লক জি, বনশ্রী প্রজেক্ট, রামপুরা, ঢাকা।

এই দুর্নীতিবাজ দম্পতির ফোন নম্বরগুলোও ওই চিঠিতে দেয়া আছে।

এতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর দূদক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানায়, যেহেতু উক্ত অভিযোগপত্রটির অনুলিপি দূদক ছাড়াও আরো কিছু সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। এরই মাঝে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরুও হয়েছে। সবার আগে যাচাই করা হচ্ছে ওই চিঠিতে দেয়া ঠিকানাগুলো। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ওই দম্পতিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে ডাকা হবে বলেও সুত্রটি উল্লেখ করে।

মাঠ পর্যায়ের তদন্ত শেষ হতে কতোদিন সময় লাগতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে দূদক সূত্রটি বলে, যেহেতু বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তাই তদন্তে এক-দু মাস সময়ও লেগে যেতে পারে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জমা হয়েছে এমন সংবাদ পাওয়ার পর মুনশি রুহুল আমিন, তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা হিমালী এবং এই সম্পতির সন্তানেরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। আরো জানা গেছে, এই পরিবারটি ইস্টার্ন সার্কিট, ফ্ল্যাট নং ৩/২০১, দ্বিতীয় তলা, ৩০ শান্তিনগর, ঢাকা তেই বর্তমানে বাস করছে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন