জাতীয়

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছ কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ার আগে তা অপসারণের দাবি ইলিয়াস কাঞ্চনের

সম্প্রতি রাজধানী শাহবাগে শিশু একাডেমি সংলগ্ন দোয়েল চত্বরের সামনে নারকেল গাছ ভেঙে একটি সিএনজি ও রিকশার উপর পড়ে মিতু নামে এক তরুণী নিহত হন। দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে সড়কের পাশে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছ অপসারণের দাবি জানিয়ে ছিলেন নিসচা প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।

তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিশু একাডেমি সংলগ্ন দোয়েল চত্বরের সামনে ভেঙে পড়া নারকেল গাছসহ বিভিন্ন গাছ পালার ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা কেটে পরিস্কার করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ডালপালা অপসারণের কাজ অব্যহত রাখা হয়। এদিকে গত ১ এপ্রিল ঢাকার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে দুইজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। গত রবিবার সন্ধ্যার পর ঝড় শুরু হলে ভবন থেকে ইট পড়ে এক চা দোকানি এবং গাছ ভেঙে এক নারী নিহত হয়েছেন। সংসদ ভবন এলাকা ও পুরানা পল্টন মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও পুরান ঢাকাসহ অধিকাংশ এলাকায় ঝড়ের সময় বিদ্যুতের সমস্যা হয়। আবার অনেক এলাকায় গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে যায়। রাস্তায় পানি জমে যায়। রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে এখনও অনেক এলাকা রয়েছে যেসব স্থানের গাছপালাগুলো অত্যন্ত ঝঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এদিকে এপ্রিল মাসে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের আরও ৩টি কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ গাছ আছে বলে নিসচার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে। এমতাবস্থায় ইলিয়াস কাঞ্চন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সড়কের পাশে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছ, দেয়াল, বাড়ি, বিদ্যুৎ এর খুটিসহ সকল কিছু অপসারণ করে সড়ককে নিরাপদ করার জন্য আবারও দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাছ চাপা পড়ে সড়কে মৃত্যু সাম্প্রতিককালে অনেক ঘটেছে এই দুর্ঘটনারোধে আমাদের কার্যকর ভূমিকা এখনই গ্রহণ করতে হবে। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, গাছ রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্বল ও রোগাক্রান্ত গাছ চিহ্নিতকরণ, অপসারণের বিষয়গুলো নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে খুব একটা দেখা হয় না। ফলে কালবৈশাখীর দমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় গাছগুলো ভেঙে পড়ে জানমালের ক্ষতি করছে। এই দুর্ঘটনারোধে কর্তৃপক্ষের যথাযথ কার্যকর ভুমিকা পালনের জোর দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিকল্পনাহীনভাবে রাস্তার ধারে, পাবলিক প্লেসে গাছ লাগানো হয়। ফলে গাছ ঠিকভাবে বাড়ে না, ফল দেয় না, অকালেই মরে যায়। মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী রাস্তার ধারে বা পাবলিক প্লেসে গাছ লাগাতে হবে। গাছ অতিরিক্ত বয়স্ক ও রোগাক্রান্ত হলে সামান্য বাতাসে ভেঙে পড়তে পারে। প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে, ভেঙে পড়ার আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ এমন গাছ রয়েছে তা দ্রুত অপসারণ করে নিরাপদ করে তোলার আহবান জানান যাতে করে ঝড় বাতাসের সময় কোন মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার কেউ না হয়।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন