বিনোদন

পরপারে পাড়ি জমালেন হাসির রাজা আনিস

(২৮ এপ্রিল) রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় টিকাটুলীর নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন মঞ্চ, টিভি কিংবা চলচ্চিত্র কমেডিয়ান অভিনেতা আনিস (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সকাল ৯টায় টিকাটুলী জামে মসজিদে ১ম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরহুমের নামাযের জানাজা বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১ টায়। এরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়ার হবে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার বল্লবপুর গ্রামে। সেখানে বাদ আসর তাকে সমাহিত করা হবে।

আনিসের জামাতা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন শিমুল জানান, উনি সুস্থ ছিলেন। রাতে নামাজ পড়ে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। ওখানেই তার স্ট্রোক হয়।

মঞ্চ, টিভি কিংবা চলচ্চিত্র – অভিনয়ের সব ফরম্যাটেই কাজ করেছিলেন। বলা যায় সব মাধ্যমেই সফল অভিনেতা ছিলেন  আনিস। কমেডিয়ান হিসেবে ষাট থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন কমেডিয়ান তারকা আনিস।

টেলিভিশনের বহু নাটকে ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে অভিনয় করে এই আনিস যে একজন  কিংবদন্তি তুল্য তারকার মর্যাদা পেয়েছেন – তা বলতেই হবে। তাঁকে বলা হত ‘হাসির রাজা’।  যদিও, আজকের দিনের দর্শকদের অনেকেই তাঁকে চেনেন না বললেই চলে। নবাব সিরাজুদ্দৌল্লা মঞ্চ নাটক করে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ফজলে লোহানীর খ্যাতনামা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’ এ কইঞ্চেন দেহি কৌতুক পর্বে অভিনয় করে তার কৌতুক অভিনেতা হিসাবে দক্ষতার পরিচয় দেন।কৌতুকে তিনি যে নতুন এক ধারা এনেছিলেন – তা মনে রাখার মতো। তিনি শুধু অভিনেতা নন, তিনি একজন তারকা।

তাঁর জন্ম ১৯৪০ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন বাংলার জলপাইগুড়িতে। জলপাইগুড়ি এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অভ্যন্তরে। জলপাইগুড়ি অনেক পুরনো এক জেলা শহর।

আনিস ঢাকার চিত্র জগতে যোগ দেন ১৯৫৭ সালের দিকে। প্রথম দিকে আনিস ছবির জগতে সহকারী চিত্র সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ঢাকার চলচ্চিত্রের বিখ্যাত দুই ভাই এহতেশাম ও মুস্তাফিজের লিও দোসানী ফিল্মসে কাজ করতেন তিনি। সেখান থেকেই সুযোগ আসে অভিনয়ের। আনিসের প্রথম অভিনীত ছবি হল ‘বিষকন্যা’। এ ছবিতে কাজ শুরু করেন ১৯৫৯ সালের দিকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, পরবর্তীতে এ ছবিটি মুক্তি পায় নি। পরবর্তীতে আনিস শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন।

এখানে কয়েকটি ছবির নাম উল্লেখ করা হলো

  • পয়েসে। এটি ছিল উর্দু ছবি। মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘পয়েসে’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৪ সালের ২৮ আগষ্ট
  • এই তো জীবন। এ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৪ সালের ১৩ মার্চ। পরিচালক ছিলেন  জিল্লুর রহিম।
  • মালা। এটি ছিল উর্দু ছবি। মুস্তাফিজ পরিচালিত এ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৫ সালের ২৬ নভেম্বর।

এর বাদেও আনিস অভিনীত মনে রাখার মতো ছবি অসংখ্য। জরিনা সুন্দরী, জংলী মেয়ে, সাইফুল মুলক বদিউজ্জামাল, মধুমালা, ডাকবাবু, শহীদ তিতুমীর-সহ  অনেক ছবিতে তিনি স্মরণীয় অভিনয় করেছিলেন।

স্ত্রী কুলসুম আরা বেগম মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সালে অভিনয় থেকে বিদায় নেন আনিস। তাঁর দুই মেয়ে। একজন আমেরিকা থাকে, আরেকজন থাকে কুমিল্লা।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন