বিনোদন

সাহিত্য চলচ্চিত্র : সম্পূর্ন রঙিন আট

ফিল্ম বা সিনেমা বাংলা চলচ্চিত্র বা ছায়াছবি। শিল্পের সবচেয়ে বড় মাধ্যমের নাম চলচ্চিত্র। আর চলচ্চিত্রের মূল হাতিয়ার হচ্ছে গল্প। বইয়ের পাতা বা উপন্যানের পৃষ্ঠা থেকে লিখিত সাহিত্য পর্দায় দৃশ্যমান রূপ চলচ্চিত্র। সারা পৃথিবী জুড়ে সাহিত্যনির্ভর গল্পে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রচলিত রীতি। আর এসব চলচ্চিত্র দর্শক জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল হয়। যদিও সাহিত্যকর্ম থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের রীতি ঢাকার চলচ্চিত্রে কখনোই তেমন শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। গত কয়েক দশকে অবশ্য মূল ধারার বাইরে থেকে এই ধরনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে সাহিত্যকর্ম থেকে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার চলচ্চিত্রের যে সংকট চলছে, তার জন্য টোটকা বাতলাতে গিয়েও অনেকেই এই রীতি অনুসরণের কথাও বলে আসছেন। আর এই টোটকাটা যে নেহায়েত খেলো নয়, তার প্রমাণ হিসেবে প্রথম পর্বের চলচ্চিত্রগুলো তো থাকছেই, পাশাপাশি সম্প্রতি নির্মিত সাহিত্য অনুপ্রাণিত চলচ্চিত্রগুলোও হতে পারে বড় প্রমাণ।

পোকা মাকড়ের ঘরবসতি (১৯৯৬

১৯৮৬ সালে দক্ষিণাঞ্চলের জেলেদের জীবন নিয়ে সেলিনা হোসেন একটি উপন্যাস লেখেন। নাম দেন পোকা মাকড়ের ঘরবসতি। আর এই উপন্যাস থেকে একই নামের চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন আখতারুজ্জামান, ১৯৯৬ সালে। প্রযোজনা করেন নায়িকা ববিতা। নায়িকা চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। ববিতা ছাড়া আরো অভিনয় করেন আলমগীর, খালেদ খান ও রওশন জামিল।

দীপু নাম্বার টু

দীপু নাম্বার টু (১৯৯৬)

১৯৯৬ সালে মুহম্মদ জাফর ইকবালের জনপ্রিয় কিশোর উপন্যাস দীপু নাম্বার টু থেকে মোরশেদুল ইসলাম নির্মাণ করেন একই নামের এই চলচ্চিত্রটি। বাংলাদেশের অন্যতম এই শিশুতোষ চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দুই বন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করে দুই নবাগত শিশুশিল্পী অরুণ সাহা (দীপু) ও শুভাশীষ রায় (তারেক)। দীপুর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ, মার চরিত্রে ববিতা। অন্যান্যদের মধ্যে অভিনয় করেন গোলাম মুস্তাফা, ডলি জহুর,শামসুজ্জামান খান বেনু, আবুল খায়ের, কেরামত মাওলা, মাসুদ আলী খান, আবদুল আজিজ প্রমুখ।

হাঙর নদী গ্রেনেড

হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭) 

সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদীর গ্রেনেড’ নামক উপন্যাস থেকে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম এটি নির্মাণ করেন। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় ১১৩ মিনিট ব্যাপ্তির ছবি ‘হাঙর নদীর গ্রেনেড’। ছবিতে অভিনয় করেন সুচরিতা, সোহেল
রানা, অরুনা বিশ্বাস, অন্তরা, ইমরান, দোদুল, আশিক। ছবিটির সুরকার শেখ সাদী খান, চিত্রগ্রাহক জেড এইচ পিন্টু, সম্পাদক সৈয়দ মুরাদ। চলচ্চিএটি আবর্তিত হয় বুড়ি নামের এক মা কে কেন্দ্র করে। যে মুক্তিযোদ্ধা দুই ছেলে কলিম আর সলিমের মৃত্যু হওয়া সত্বেও অন্য দুই মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ বাঁচাতে তার প্রতিবন্ধী ছেলে রইসকে তুলে দেয় পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর হাতে।

শ্রাবণ মেঘের দিন

শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯)

শ্রাবণ মেঘের দিন সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা ও কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। সিনেমাটি মুক্তি
পায় ১৯৯৯ সালে। তারই লেখা ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, শাওন, মাহফুজ আহমেদ, আনোয়ারা, ডা. এজাজ সহ অনেকে। মতি নামের একজন যুবককে গ্রামেরই কুসুম নামের এক মেয়ে মনে মনে ভালোবাসে। মতি একজন গায়ক। কুসুমের গলাও বেশ ভালো। ঢাকা থেকে আসা জমিদারের নাতনী শাহানা’কে ভালোবেসে ফেলে মতি। এদিকে কুসুমেরও বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। এমনই এক গল্প বয়ানে এগিয়ে চলে ছবির কাহিনি। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমাটি মোট ৬টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিলো।

 

লালসালু

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস লালসালু (১৯৪৮) থেকে ২০০১ সালে একই নামের চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন তানভীর মোকাম্মেল। অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, মুনিরা ইউসুফ মিমি, চাঁদনী, আলী যাকের, রওশন জামিল, চিত্রলেখা গুহ প্রমুখ। চলচ্চিত্রটি মোট ৮ ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেয়।

বাঙলা

বাঙলা (২০০৬)

উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত আহমদ ছফার অনন্য উপন্যাস ওঙ্কার (১৯৯৩)। ২০০৬ সালে উপন্যাসটি থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন শহীদুল ইসলাম খোকন- বাঙলা নামে। কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনয় করেন মাহফুজ, শাবনূর ও হুমায়ুন ফরীদি।

গেরিলা

গেরিলা (২০১১)

সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নিষিদ্ধ লোবান থেকে ২০১১ সালে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ নির্মাণ করেন গেরিলা। চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে জয়া আহসান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন। সুরকার আলতাফ মাহমুদের চরিত্রে অভিনয় করেন আহমেদ রুবেল। প্রধান চরিত্রগুলোতে আরো অভিনয় করেন ফেরদৌস, শম্পা রেজা, এটিএম শামসুজ্জামান, শতাব্দী ওয়াদুদ, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যামল মাওলা , মাসুম আজিজ, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

মেঘমল্লার

মেঘমল্লার (২০১৪)

শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‍মুক্তিযুদ্ধের গল্প রেইনকোট অবলম্বনে ২০১৪ সালে জাহিদুর রহিম অঞ্জন নির্মাণ করেন মেঘমল্লার। চলচ্চিত্রটিতে মুখ্য চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন শহীদুজ্জামান সেলিম, অপর্ণা ঘোষ ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন মারজান হোসেন জারা।

 

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন