বিনোদন

আব্বাস’র সাফল্যে আনন্দে ভাসছেন নিরব

একটা সময় বাংলা সিনেমা ছিল ইতিহাস-ঐতিহ্য নির্ভর ও গর্ব করার মতো। কালের পালাক্রমে তা আজ সোনালী অতীত। উত্তম-সুচিত্রা যুুগের কথা না হয় বাদই দেওয়া গেল। রাজ্জাক, বুলবুল আহমেদ, শাবানা, কবরী, ববিতা, সুচন্দা, ওয়াসিম, উজ্জ্বল ও সোহেল রানার মতো অভিনেতারা একের পর এক কী সব কালজয়ী সিনেমাই না উপহার দিয়েছেন আমাদের। যেমন ছিল সেগুলোর নাম, দৃশ্যায়ন, গান তেমনি ছিল সেগুলোর শিল্পমান। অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, সীমানা পেরিয়ে, ছুটির ঘণ্টা, জীবন থেকে নেওয়া, সূর্যস্নান, অশনি সংকেতের মতো সিনেমাগুলো চুম্বকের মতো কয়েকটি প্রজন্মকে ধরে রেখেছিল হলে। তখন হলগুলো থাকতো কানায়-কানায় পরিপূর্ণ। আসন সংকটে মোড়া বা টুলে বসে ছবি দেখার মতো হাস্যকর বিষয়ও ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। টিকিটের জন্য লম্বা লাইন, টিকিট নিয়ে মারামারি, টিকিট না পেয়ে কয়েকগুণ দামে কালোবাজার থেকে কেনা এসবও ছিল একেবারে সাধারণ ঘটনা যা কি-না এখন কল্পনাও করা যায় না।

স্বাধীনতা লাভের পর গত চার দশকে বাংলাদেশর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে, শিক্ষিতের হার বেড়েছে, শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক সমৃদ্ধি ঘটেছে। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে সব কিছুতেই। কিন্তু চলচ্চিত্রের অগ্রগতির বদলে শুধু অধঃপতন হয়েছে গত দুই-আড়াই দশকে। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা শুরু হয় নব্বই দশকের গোড়ার দিকেই। যার ফলে দর্শকদের একটা বড় অংশ সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা প্রায় বন্ধ করে দেয়।

কয়েক বছর ধরে ডিজিটাল সিনেমার নামে যেসব ছবি নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলো নিয়েও প্রশ্ন রয়ে যায়। অধিকাংশ সিনেমা ভারতীয় সিনেমার নকল। দর্শকরা মৌলিক গল্পের আশায় হলে গেলেও রীতিমতো প্রতারিত হয়েছে। এভাবে সাময়িক সময়ের জন্য দর্শকদের হলমুখী করা গেলেও দর্শক যে ধরে রাখা যাবে না তা হলফ করে বলে দেওয়া যায়।

তবে আশার কথা যে, মাটির ময়না, মনপুরা, গেরিলা, টেলিভিশন, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দেবি, আয়নাবাজি’র মতো কিছু ছবি নির্মিত হচ্ছে। মৌলিক গল্প আর ভালো অভিনয় পেলে যে আমাদের দর্শকরা নিরাশ করে না তার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ গেল ৫ জুলাই শুক্রবার মুক্তি পাওয়া সাইফ চন্দনের ‘আব্বাস’। বাণিজ্যিকভাবেও যে ভালো ঢাকাই সিনেমা হতে পারে তা বুঝা যাচ্ছে ‘আব্বাস’সিনেমার সাফল্য দেখে। এ সাফল্য সিনেমার নাম ভূমিকায় যিনি অভিনয় করেছেন তিনি  চিত্রনায়ক নিরব । এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন চিত্রনায়ক নিরব। খুব বেশি হলে চলচ্চিত্রটির মুক্তি না মিললেও মিলেছে প্রশংসা। কাহিনী, চিত্রনাট্য আর নির্মাণের পাশাপাশি নিরবের অভিনয় লুক, টিজার-ট্রেলার বা গানসহ সবকিছুতেই যেন ভিন্নতা নিয়ে প্রশংসা করেছেন সমালোচকরাও।

তাছাড়া আব্বাস চলচ্চিত্রই যে তাকে এমন সাফল্য এনে দিবে ভাবতেই পারেন নি। তাই নিজেকে নতুন করে আবিস্কারের ঘোর এখনও কাটেনি নায়ক নিরবের।

তাই তিনি বলেন, আমার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমি সাফল্যের স্বাদ পেতে চাই। জীবনে যাই করি না কেন আমি তার সর্বোচ্চ শিখরে উঠতে চাই। কোন অবস্থাতেই কোন কাজে আমি অসফল হতে চাই না। আমি সাফল্যের মূল্য বুঝি – I don’t want to take success for granted in life – যেমন অনেক সফল নায়ক নায়িকারা করে থাকেন, তাঁদের attitude পাল্টে যায়। আমি চাইনা আমার আড়ালে দর্শকরা বলুক যে সফল হওয়ার পরে আমার হাব ভাব পাল্টে গেছে, আমার ব্যবহার পাল্টে গেছে। আমার কাছে সাফল্য মানে নিজের শিকড়কে না ভুলে, মাটিতে পা রেখে এগিয়ে চলা। এই ছবির মধ্যে দিয়ে দর্শক আমাকে নতুনভাবেই পেয়েছে। আমার জন্য বিষয়টি খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল কিন্তু আমি তা করতে সার্থক হয়েছি। আর তার জন্যই ছবি মুক্তির পর ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত আমি।

তিনি আরও বলেন, একটি সিনেমার গল্প যখন নায়ক হয়ে যায় সেটি দর্শকদের আরো কাছাকাছি পৌঁছে দেয়। আব্বাস সিনেমায় গল্পই মূল নায়ক। আমি অনেকগুলো সিনেমা হলে সিনেমাটি দেখেছি। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সরাসরি দেখে যেই মুগ্ধতা তৈরি হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন। আমাদের সমাজের একটি গল্প সিনেমায় দেখানো হয়েছে। আমাদের সমাজে দর্শকরা অনেক আব্বাস খুঁজে পাবেন।

বিশ্বকাপের আমেজ তারপরেও কতটুকু সাফল্য ধরে রেখেছে আব্বাস? এমন প্রশ্নে নিরব বলেন, মুক্তির প্রথম দিনে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শেষ ম্যাচ ছিল, তারপরও ‘আব্বাস’ দেখতে যে পরিমাণ সাড়া পেয়েছি সেটা অভাবনীয়। হলমালিকরাও এমন দিনে দর্শক স্রোত দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ভালো সিনেমা দর্শক যে গ্রহণ করে আব্বাস সিনেমা তা আবারও প্রমাণ করল। শুধু তাই নয়, সিনেমা হলেও দর্শক খরা কেটে যায় একটি ভালো সিনেমার জন্য। এক কথায় ভালো গল্পের সিনেমা দর্শকদের হলমুখি করে। আমার বিশ্বাস এভাবেই চলিচ্চত্র পাড়া একদিন আবার চাঙা হবে। তাই আমি মনে করি হল ভর্তি দর্শকরাই ‘আব্বাস’ সিনেমার সাফল্যের দাবিদার।

সিনেমার সাফল্য এবং সিনেমায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করা প্রসঙ্গে নিরব বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার অভিনীত আব্বাস সিনেমা দর্শক বেশ ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা মহিলা দর্শক ও হলমুখী হয়েছেন এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের, ভীষণ উচ্ছাসের। সিনেমার এই সাফল্য চলচ্চিত্র পাড়া’সহ সারা দেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকের কাছে পৌঁছেগেছে। তাই আব্বাস’র সাফল্যে পুরো আব্বাস’র টিমই যেন উচ্ছসিত।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু সিনেমায় নিয়মিত কাজ করার জন্যই এসেছি। তাই আমার পরবর্তী সিনেমায় আরো ভালো কিছু দেবার চেষ্টা করছি। অতএব দর্শকের ভালোলাগার ওপর নির্ভর করছে এখানে নিয়মিত কাজ করার বিষয়টা।

আপনার সহকর্মীরা কতোটা উৎসাহ দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নিরব বলেন, আমি যতোটা আশা করেছিলাম ততোটাতো নয়ই। কেউ কেউ আমার সিনেমা দেখে আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, উৎসাহও দিয়েছেন।

যেমন এদিকে ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান আব্বাস সিনেমার মুক্তির ঠিক পূর্ব মুহূর্তে মুগ্ধতা ও শুভ কামনা জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। শাকিব সেখানে বলেন, নিরব আমার স্নেহের ছোট ভাই। সাইফ চন্দনও আমার পছন্দের ছোট ভাই। তারা দু’জনই আমার খুব স্নেহের ছোট ভাই। অনেক শুভকামনা থাকলো তাদের ছবিটির জন্য। ছবিটা যেনো ভালো ব্যবসা করে। আমি ছবিটির ট্রেলার দেখেছি গান দেখেছি, আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। আমার বিশ্বাস ছবিটি সবার ভালো লাগবে। এই ছবির সফলতা কামনা করছি।

গেল ৫ জুলাই শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে চিত্রনায়ক নিরব অভিনীত সিনেমা ‘আব্বাস’। রোজার ঈদের পর দেশের হলগুলোয় যখন নতুন সিনেমার সংকট সেই সময় এই সিনেমাটি দর্শকদের আলোচনার জায়গাটা বেশ ভালোভাবে দখল করে। ঢাকার উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলগুলোর পাশাপাশি সারাদেশে মুক্তি পায় ‘আব্বাস’। মৌলিক গল্পে নির্মিত নিরবের ‘আব্বাস’ বেশ প্রশংসিত হয়েছে। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সাইফ চন্দন। সিনেমাটিতে নিরবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সোহানা সাবা। আরও আছেন আলেকজান্ডার বো, সূচনা আজাদ, জয়রাজ, ডন, শিমুল খান, স্বাধীন ও ইলোরা গহর প্রমুখ। এটি প্রযোজনা করেছে ঢাকা ফিল্মস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট।

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন