বিনোদন

‘সিনেমায় কমেডি বাদ দিয়ে আর কত ধোকা দিবেন দর্শকদের’

একটি সিনেমায় দর্শকদের হাসি আনন্দ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কমেডিয়ানরা। এই সময়ের কমেডি অভিনেতা চিকন আলী। ২০০৬ সালে ‘রঙিন চশমা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় চিকন আলীর। তারপর থেকে নিয়মিত অভিনয় করে কাবিলা, আফজাল শরীফের পর কমেডি অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

আজ কথা হয় এই কমেডি অভিনেতার  সাথে তিনি বলেন- চলচ্চিত্রের একজন পেশাদার শিল্পী আমি। অনেকের বলতে শুনেছি,তারা শখে অভিনয় করতে এসে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। মানে হচ্ছে তাদের ইচ্ছাটা এমন ছিলো রথ দেখা হলো  এবং কলা বেচাও হলো। আমি তার ধারে কাছে নেই। আমি চলচ্চিত্রে এসেছি, অভিনয় টা কে নেশা ও পেশা হিসেবে নিতে । আর নিয়েছি বলেই আলহামদুলিল্লাহ, আজ সারা বাংলার মানুষ শুধু নয় ওপার বাংলায় ও আমি আমার জাত চিনিয়েছি। দুই বাংলায় চিকন আলী এখন একটা ব্রান্ড। যাই হোক, আমরা শিল্পীরা পানির মত,পানি যেমন যে পাত্রে রাখবেন, সেই পাত্রেই সেই আকার ধারন করবে,আমরা ও তাই। আমাদের ও যে চরিত্র দিবেন, তা করাটাই আমাদের কাজ। সুনাম বদনাম নিয়েই একজন অভিনেতা একজন শিল্পীর ক্যারিয়ার, আমার বদনাম কত টুকু ছিলো বা আছে,সহ-শিল্পী, পরিচালক, সাংবাদিক সহ সবাই জানে।

তিনি আরো বলেন, আজ চলচ্চিত্রের ক্লান্তি লগ্নে এসে,অনেকেই চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিয়েছে কেউ কেউ আমার মত আধা বেলা খেয়ে চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় আছে বদলে যাবে চলচ্চিত্র। ঠিকই চলচ্চিত্র বদলে যাচ্ছে, কিন্তু সাফল্য আসছে না কারো । কারন ইতিবাচক এর চাইতে নেতিবাচক ভর করছে বেশি। একটি ছবি হিট হলো,সেই ছবির পরিচালক,নায়ক নায়িকা তিন জনই হিট হলেন,রেমিনেরেশন হয়ে গেলো হাই। একজন কমেডিয়ান হিসেবে ওই নায়ক নায়িকার সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে অভিনয় করলাম।তারা পেলো দশ ছবি আমাদের ঝুলি শুন্য। তারাও আর খোজ রাখেন না আমাদের। ভুল করেও মনে করেন না,হায়রে যার ঘাড়ে পারা দিয়ে আজ আমি এখানে তাকে যদি এই কাজ এ রাখতে পারতাম। না এই প্রেম চলচ্চিত্রে আগে ছিলো,এখন আর নেই।সেই কারনে আত্নার অভিশাপে এরাও নাই হয়ে যায়।

চিকন বলেন, আমাদের চলচ্চিত্রের নায়ক নায়িকা, প্রযোজক পরিচালক দের একটা নীতি হয়ে গেছে,যার মাথায় তেল আছে,তার মাথায় আরো তেল ঢালা।আমি চলচ্চিত্রের জন্য টিভি মিডিয়াতে পা রাখিনি,ফ্রি সেলিব্রিটি হলে কেউ টিকেট কেটে দেখবেন না বলে।আর আমাদের নায়ক নায়িকা পরিচালক মহোদয়েরা ওই ফ্রি শিল্পীকে টেনে নিয়ে এসে,আমার চরিত্র টার বারো বাজিয়ে দিচ্ছেন।পরিশেষে ফলাফল গোল্লা।দশ বছর থেকে বাড়েনি আমার পারিশ্রমিক, বাড়েনি আমার জীবন সংসার বাচানোর চেস্টা।কোন ছবিতে অভিনয়ের জন্য ডাকলে পরিচালক বা প্রযোজক নয়,ম্যানেজার বা সহকারী পরিচালক দিয়ে নক করানো হয়।ছোট একটু ক্যারেক্টার আছে,এতো টাকা দিবো করে দাও।যদি বলি আমি একটু পরিচালক বা প্রযোজক এর সাথে কথা বলতে চাই।দূর মিয়া তোমার কথা আমি বলছি।সেই টাকায় কাজ করতে গিয়ে দেখি,বিশাল চরিত্র মাস চলে যায়,টাকা ওই দশ দিনের।বদনাম নয় বাস্তব তুলে ধরছি,আমাদের সবার চিন্তা করে শিডিউল করা হয়না।শিডিউল করা হয় একজনের উপর।যদি সে জন বলে এই সপ্তাহে আমি কাজ করবো না,এই সপ্তাহের কয়দিন উনি করবেন না,তাও আমাদের জানানো হয় না।অথচ সারাবিশ্বের চলচ্চিত্রে টিম ওয়ার্ক নীতি তে কাজ হয়।একজন নায়ক নায়িকা পান লক্ষ লক্ষ টাকা,আমার পাই হাজার হাজার, তারপর ও তাদের চিন্তা থাকেনা কো আরটিস্ট টা কিভাবে বাজবে।আজও আমাদের লিখিত কোন শিডিউল হয়না।জাস্ট মৌখিক। কার কাছে বিচার চাইবো।

চিকন আরো বলেন, মিডিয়ার যত পরিচালক আসছে সিনেমা বানাইতে,শুধু মাত্র মুল কাস্টিং ই নেন,চলচ্চিত্র থেকে,বাকি কাস্টিং ওই মিডিয়া মুখী।মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের ছবি।অনেক আশা নিয়ে থাকি,মিডিয়ার মানুষ অনেক ক্রিয়েটিভ, আর ক্রিয়েটিভ মানুষ গুলির সাথে অনেক খেলা যায় অভিনয় নিয়ে,না উনারা খেলা শুরু হওয়ার আগেই গোল দিয়ে বসে থাকেন।সারাবিশ্বের কমেডিয়ান রা যখন সুপার বিজি, আমরা তখন শুন্যের মনি কোঠায়।আজ নাকি ছবি তে কমেডি রাখতে হয় না,এমনি ই চলে।এমন চলা চলে প্রযোজক এর হাতে হারিকেন ব্যাক বাম্বু।আড়াই ঘন্টা একজন দর্শক বসে থাকবে কি কারনে। ঘুরেই নায়ক,ঘুরেই নায়কা,ঘুরেই নাচ,ঘুরেই গান,আরে ভাই দর্শক দের রিলাক্স কই।ছবি যায় ঝুলে দর্শক যায় ঝিমিয়ে,প্রযোজক যায় হাড়িয়ে সিনেমা যায় ফুড়িয়ে।সবাই বলে কোন ছবি ই চলেনা। আমাদের দেশে খুব কপি করা হয় মুভি, বাইরের ছবি গুলিকে কপি করে আমাদের দেশে বানানোর প্রবনতা বেশি।সেই কপি ও ঠিকমত হয়না।যে ছবি কপি করছেন তাতেই আছে তিরিশ পারসেন্ট কমেডি।ভদ্র লোকেরা সেই কমেডি বাদ দিয়ে সত্তর পারসেন্ট নিচ্ছেন। আর কত ধোকা দিবেন দর্শক দের। আর কত সহ্য করবেন তারা।

তাই তিনি বলেন, আসুন আড়াই ঘন্টা বসিয়ে রাখতে হলে শুধু জিরা দিয়ে নয়,সমস্ত মসল্লা দিয়ে ছবি বানান। কথা দিচ্ছি দর্শক হল থেকে বের হবে তালি আর শিশ ফুটিয়ে।দিলদার স্যার এর প্রতি ছবিতেই নায়ক নায়িকা ভিলেনের চাইতে বেশি মনে রাখতে তাকে।তার মানে এই নয় যে,উনি নায়ক নায়িকা ভিলেন কে বাশ দিছে। উনি তালি পাইলেন আপনি পাইলেন না,এই ট্রেডিশন থেকে বের হয়ে আসুন। যার কাজ তাকে দিয়ে করান।আমাদের চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরবেই।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন