বিনোদন

নবীর নির্মাণে জোভানের অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক, তবে..

ছোট পর্দায় যে ক’জন সেরা এবং নিয়মিত নির্মাতা আছেন তাদের মধ্যে সহিদ উন নবী অন্যতম একজন | এবার কোরবানী ঈদে তার কিছু নাটক প্রচার হয় বিভিন্ন চ্যানেলে | এরমধ্যে ঈদের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যা ৭টায় চ্যানেল নাইন- এ প্রচার হয় ‘ আগুনের দিন শেষ হবে একদিন ‘ | নাটকটি টিভির সাথে সাথে অন্তর্জালে অবমুক্ত হওয়ার পর থেকেই আলোচনা -সমালোচনা সাথে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন নির্মাতা থেকে শুরু করে অভিনেতা ও অভিনেত্রীরাও | আসুন একটু দেখে আসি ও শুনে আসি কি নির্মাণ করেছেন সহিদ উন নবী |

(এ নাটক নিয়ে পোস্টমর্টেম করেছেন রকিবুল ইসলাম রাকিব )

রেটিং :-৯.৫০\১০

(গল্পের সারসংক্ষেপ) -পুরান ঢাকার একটি গল্প নিয়ে নাটকটি। একটি অসহায় এতিম ছেলে ইউসুফ । সে একটি আতরের দোকানে চাকরি করে। আশপাশের দোকানের কর্মচারিদের সাথে তার ভালো সর্ম্পক। এমনই এক পাশের দোকানের কর্মচারির দূর সর্ম্পকের এক আত্বীয়ের মেয়ে তাদের দোকানে আশে। দূর্ভাগ্যবসত সেই আয়শাও এতিম | কিন্তু তাকে দেখে ইউসুফের ভালো লেগে যায় তারপর সে বিয়ে করে। এরপর ছোটখাটো একটা সংসার হয়ে গেলো তাদের । ভালোই কেটে যাচ্ছিলো তাদের সংসার । এরপর ঐমেয়েটি অন্তঃসত্বা হয়, অন্তঃসত্বা হওয়ার কিছু দিন পর তাদের এলাকায় আগুন ধরে। এবং আগুন লাগে ইউসুফ ও আয়শার গায়ে | শেষটা আর বলার অবকাশ রাখেনা সমাপ্তি ঘটে গান দিয়ে ,এতে করে বোঝা যায় তারা আর নেই |

রেটিং :-৬.৫০ \১০
(মূলধারা) — দুটি এতিম ছেলেমেয়েদের দেখা ভালোলাগা প্রেম বিয়ে আর শেষ ঠিকনা হলো আগুনে পুড়ে অনন্তকালের বাসিন্দা | যে শেষ দৃশ্য দেখে নাটক প্রেমীদের কাঁদিয়েছেন জোভান ও তার সহশিল্পী |

রেটিং :- ৮ \১০ (মোট নয় )
(অভিনয় )- ফারহান আহমেদ জোভান , তিনি তার নিপুণ ছন্দে বাধা অভিনয় ফুটিয়ে তুলেছেন (পার্সোনাল রেটিং আউট অব টেন ) | অনেকদিন পর এমন ব্যালান্সড নাটক দেখলাম। সাম্প্রতিক কালের অন্য ধারার প্রেমের ছোয়া নাটক -র চেয়েও ভাল লেগেছে এ -নাটকটি । ভাষার দিক দিয়ে তার অসাধরণ ছিল ভঙ্গিমা | সব মিলিয়ে যেন পাটিগণিতের সমীকরণ |

তানসিয়া ফারিন – আহারে একটি কিঞ্চিৎ হতাশার শিল্পীর নাম বা আনকোড়া একটি অভিনয় | আয়েশা যে চরিত্র ছিল তার ,সেটা কোনোভাবেই ওভারকাম নয় বরং আয়েশা ‘র মতো একটি নান্দনিক চরিত্রকে চেপে মারলেন | তবে কিছু অংশে ভালো লেগেছে ফেস এক্সপ্রেশন , কিছুটা উন্নতি হচ্ছে অভিনয়ে , তবে ভীষণ রকম স্টাডি এবং গল্পে মিশতে পারলে হয়তো ভালো করবেন | ( আমার তেমনটা ভালো লাগেনি তার অভিনয় ,এইখানে তানজিন তিশা , নাদিয়া ,মম , থাকলেও বেশ ভালো লাগতো ,(বিপাশা )- তাকে রেটিং করার মতো রেটিং নেই তার অভিনয়ে )

রেটিং -৮.৫০ \১০
(নির্মাণ) – সহিদ উন নবী একজন ভালো নির্মাতা পাশাপাশি ভালো গল্প লেখেন বা কনসেপ্ট মাথায় থাকে তাছাড়াও তিনি একজন অভিনেতা |

নির্মাণের দিক দিয়ে তাকে ‘জাহাজ’ বলা যাবে না তবে এই নাটকে কিছু কিছু দৃশ্য তিনি অসাধরণ ভাবে নিয়েছেন যদিও ক্যামেরাম্যান তার ‘ ক্যালমা’ টা দেখিয়েছেন তবে নির্দেশটা কিন্তু তারই ছিল | আমি বলবো এককথায় ভালো লেগেছে | এবং নাটকের নামটি দেখে শাবানা আলমগীরের সেই গানটির কথা মনে পরে গেলো ‘ আগুনের দিন শেষ হবে একদিন ‘

রেটিং :- ১০ \১০
(লোকেশন ,আবহ, সম্পাদনা, ক্যামেরা)- কিছু বলার নেই

নাটকটি কেন দেখবেন ?
– এই শহরে অলিতে গলিতে এই রকম অনেক ইউসুফ আর আয়শা আছে যাদের মনজুড়ে এক বিশাল স্বপ্ন এঁটে থাকে | বাস্তবিক জীবনে এই রকম উদাহরণ আমরা টিভিতে বা পত্রিকাতে দেখতে পাই | একটি অসাধারণ গল্প এটা এবং পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি ফিকশন | এই যুগের ফাতরা টাইপের নাটকের চেয়ে হাজার গুনে ভালো অনন্তত , আমি বলবো ঈদের সেরা দশ নাটকের মধ্যে এটি অনায়াসে প্রথম সারিতে থাকা উচিত ছিল |

ব্যাক্তিগত মতামত – সব কিছুই নিপুণ ছন্দে বাধা। চোখের বালি-র মতো উপন্যাসের পরিণতি নিয়ে রবীন্দ্রনাথকে আধুনিকদের তরফে বুদ্ধদেব বসু যথেষ্ট সমালোচনা করেন। রবিঠাকুর তা মেনেও নেন। অনেক বড় বড় শিল্পের ক্ষেত্রেই এই অসঙ্গতি চোখে পড়ে। তবে ক্লাইম্যাক্সে এসে সুতো হারিয়ে যায়। এ -নাটকে ক্লাইম্যাক্সের বাড়বাড়ন্ত অনাধুনিক করে দেয়।

তবু কোথাও এ নাটক মায়া রেখে যায়। নাটকটি দেখে পিসি বন্ধ করার সময় বারবার মনে হয়, এমন প্রেমের কাহিনি কতদিন পর দেখলাম। এত টানটান যে কলেজ-প্রেম মনে পড়ে। গরমের রাত এবং বেলা ফুরিয়ে আসে। মনে হয়, কোথাও মায়া রয়ে গেল। আর ইউসুফ আয়শা হারিয়ে গেছে সবুজ পাতার দেহে বনে বনে |

নাটক লিংক-


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন