বিনোদন

এবারের ঈদের সেরা ১০ নাটক

ঈদকে ঘিরে প্রতিবারই টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর রকমারি আয়োজন থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিলনা। তবে অসংখ্য আয়োজনের মধ্যে দর্শকরা বেশি উপভোগ করেছেন নাটক-টেলিছবিগুলোই।
টেলিভিশনের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফরম ইউটিউবেও এবার অনেক নাটক রিলিজ হয়েছে। দর্শক দেখছেন এবং মন্তব্যও করছেন তাদের ভালোলাগা বিষয়গুলো নিয়ে। অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা ও কুশলীরা জানতে পারছেন তাদের কাজ সম্পর্কে।
এখনকার দর্শকদের মাঝে সিংহভাগই তরুণ। তাদের আড্ডাস্থলে তাই বারবার চলে আসছে ঈদে রিলিজ হওয়া বেশ কয়েকটি নাটক-টেলিছবির কথা। আজকের আয়োজন এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া আলোচিত ১০টি নাটক নিয়ে।

১/ আশ্রয়: 

এবারের ঈদে নির্মিত নাটকগুলোর মাঝে এখন পর্যন্ত সেরা নাটক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ‘আশ্রয়’। নাটকটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছিলেন মাবরুর রশীদ বান্নাহ্। আকবর হায়দার মুন্না রচনায় ‘আশ্রয়’ নাটকটি সর্ব মহলে সবার কাছে খুব প্রশংসা পাচ্ছে। সমাজের চিরচেনা পারিবারিক সুখ, শান্তি, কষ্ট আর ভুলগুলো খুব নিখুঁত ভাবে ‘আশ্রয়’ নাটকে নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ্ তুলে ধরেছেন।

২/ আগুনের দিন শেষ হবে একদিন: 

পুরান ঢাকার একটি গল্প নিয়ে নাটকটি। একটি অসহায় এতিম ছেলে ইউসুফ । সে একটি আতরের দোকানে চাকরি করে। আশপাশের দোকানের কর্মচারিদের সাথে তার ভালো সর্ম্পক। এমনই এক পাশের দোকানের কর্মচারির দূর সর্ম্পকের এক আত্বীয়ের মেয়ে তাদের দোকানে আশে। দূর্ভাগ্যবসত সেই আয়শাও এতিম | কিন্তু তাকে দেখে ইউসুফের ভালো লেগে যায় তারপর সে বিয়ে করে। এরপর ছোটখাটো একটা সংসার হয়ে গেলো তাদের । ভালোই কেটে যাচ্ছিলো তাদের সংসার । এরপর ঐমেয়েটি অন্তঃসত্বা হয়, অন্তঃসত্বা হওয়ার কিছু দিন পর তাদের এলাকায় আগুন ধরে। এবং আগুন লাগে ইউসুফ ও আয়শার গায়ে | শেষটা আর বলার অবকাশ রাখেনা সমাপ্তি ঘটে গান দিয়ে ,এতে করে বোঝা যায় তারা আর নেই | দুটি এতিম ছেলেমেয়েদের দেখা ভালোলাগা প্রেম বিয়ে আর শেষ ঠিকনা হলো আগুনে পুড়ে অনন্তকালের বাসিন্দা | যে শেষ দৃশ্য দেখে নাটক প্রেমীদের কাঁদিয়েছেন জোভান ও তার সহশিল্পী | তাই এই ঈদে নির্মিত নাটকগুলোর মাঝে দর্শকরা এটাকেও সেরা নাটক হিসেবে বিবেচিত করছেন। সহিদ উন নবী ও শিশিরের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন নবী। নাটকটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন, জোভান ও ফারিন।

৩/ পতঙ্গ: 

নাটকটিতে ফুটে উঠেছে অসহায়ত্বের ছাপ। সবাই বিস্মিত নাটকটি দেখে। মন্তব্যের ঘরও বেশ ভারী। সকল দর্শক মহল থেকে আসছে খুব প্রশংসা। কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্করের ‘পতঙ্গ’ গল্পের ছায়া অবলম্বনে নাটকটি পরিচালনা করেছেন রিফাত মজুমদার রিংকু। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন, মেহজাবিন, নিশো, টুনটুনি, দাউদ নূর, নিকুল কুমার মণ্ডল প্রমুখ।

৪/এই শহরে: 

ব্যস্ত এই শহরে অনেকের জীবন যাপিত হয় একটু ভিন্নভাবে, অপরাধের মাধ্যমে। অপরাধ কখনো কেউ একা করে, কেউ কাউকে নিয়ে করে। নির্মাতা আশফাক নিপুন এই শহরের একটি গল্প বলেছেন একটি অপরাধী পরিবারের মাধ্যমে। স্ত্রী হাসপাতালের নার্স। হাসপাতালে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া বাচ্চাকে সে চুরি করে এনে দেয় স্বামীর হাতে। স্বামী তুলে দেয় দালালের হাতে। আর দালাল তুলে দেয় বিভিন্ন পার্টির হাতে।
ঘটনাক্রমে একটি বাচ্চাকে কয়েকদিনের জন্য নিজের কাছে রাখতে হয় আর তখনই মাতৃত্ববোধের কাছে গ্রাস হয়ে যায় অপরাধ করার ইচ্ছে যার শেষটা দেখে চমকে উঠবেন। আশফাক নিপুনের পরিচালনায় ‘এই শহরে’ নাটকে অভিনয় করেছেন মেহজাবিন চৌধুরী ও আফরান নিশো।

৫/ লাইফ ইনস্যুরেন্স: 

একটি বেসরকারি ইনস্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান, যাদের হাতে সাধারণ মানুষ তাদের জীবনের সবটুকু সম্বল বিশ্বাস করে তুলে দেয়। হঠাৎ মানুষদের সেই শেষ সম্বল নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। মানুষ তাদের টাকা ফেরত পাবার জন্য চাপ দিতে থাকে কর্মকর্তাদের। ছেলেকে মিথ্যা ঋণের হাত থেকে মুক্ত করতে মা তার জীবন বিসর্জন দেন। ফলে মায়ের লাইফ ইনস্যুরেন্স এর টাকা পায় তার পরিবার, পরিবার মুক্ত হয় মিথ্যা ঋণের বোঝা থেকে।
আমাদের সমাজের এই চিরচেনা গল্পকে নিজস্ব ঢঙে “লাইফ ইনস্যুরেন্স” নামের নাটকে রূপান্তরিত করেছেন ভালোবাসার গল্পকথক মিজানুর রহমান আরিয়ান। নির্মাতার অন্যান্য নাটকের মতো এই নাটকটিতেও রয়েছে মন ভালো করে দেয়া কিছু ডায়লগ। এখানে অভিনয় করেছেন অপূর্ব, মিথিলা।

৬/ কিংকর্তব্যবিমূঢ়: 

এক যাদুকর তার যাদুর খালি বাক্সে যাদু দিয়ে আপেল, কবুতর এগুলো আনত। হঠাৎ করেই একদিন তার যাদুর বাক্সে একটি ছোট্ট মেয়েকে আবিষ্কার করে। সবাই তার এই যাদুর প্রশংসা শুরু করে, ভালোলাগা তৈরি হয় সেই যাদুকরের মনে। তবে আস্তে আস্তে মিথ্যে ভালোলাগাটা যেন যাদুকরের মনে বিদ্রোহ শুরু করে দেয়। এভাবে শুরু হয় ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ এর গল্প।
ছবিয়াল পরিবারের অন্যতম সেরা নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমি ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ দিয়ে ফিরলেন দীর্ঘদিন পর, এবং দর্শকদের নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে অপেক্ষমান রাখলেন পরের কাজটির জন্য। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী আর নুসরাত ইমরোজ তিশা।

৭/ দরজার ওপাশে: 

-আচ্ছা আন্টি, ধর্ষণ কী ?
বাচ্চা মেয়েটির মুখে কথাটি শোনামাত্রই তাকে বুকে টেনে ধরলো তার আন্টি। কী উত্তর দেবে সে?
ওই শব্দটি শোনামাত্রই অজানা শঙ্কায় কেঁপে ওঠে সে। সেদিন ট্রাফিক সার্জেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য এক গাড়িতে একটি মেয়েকে হাত নাড়াতে দেখে সে। পিছু নেয়া হয়ে উঠে না। পরের দিন সেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে হত্যার খবর সে দেখতে পায় টিভিতে। এই ঘৃণ্য কাজে যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। এগিয়ে যেতে থাকে ‘দরজার ওপাশে’ নামের দুর্দান্ত গল্পের নাটকটি। ড্রামাটিক ভাইবের সাথে থ্রিলিং আবহটা বেশ ভালোই তৈরি করেছেন নির্মাতা অংশু। নারী পুলিশের চরিত্রে অপি করিম ও সহচরিত্রে ছিলেন জয়রাজ।

৮/ উবার:

বাবা চাকরি করে সংসার চালান। ভালোভাবেই চলে যায় সংসার। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের কোন শখ পূরণ করতে গেলেই বাধে বিপত্তি। বাড়তি খরচের টাকা থাকেনা তার কাছে।
এদিকে মেয়ের ভার্সিটিতে যাতায়াতে অসুবিধা হওয়ায় স্কুটি কেনার বায়না ধরে। মেয়ের বায়না পূরণ করতেই চাকরির পাশাপাশি অ্যাপস ভিত্তিক সেবা গাড়ি চালাতে নেমে পড়েন। কিন্তু মেয়ে বাবার ভালোবাসা বোঝতে পারেনা। অন্য ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যায়। সেটা আবার বাবার টেক্সিক্যাবে চড়েই যে গাড়িতে বসেই বাবার নামে নানা কথা বলে। ঘটে ভিন্ন ঘটনা। এমনই ঘটনার চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সাজিন আহমেদ বাবু। এতে অভিনয় করেছেন , তারিক আনাম. সাবিলা ও তৌসিফ।

৯/ লাইফ অব জলিল: 

৪৬ বছর আগে লেখা গল্পের সাথে হুবুহু মিলে যায় ৪৬ বছর পরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা!! এটাকে আপনারা কি বলবেন?
“Coincidence?”
বাস্তব জীবনে কি তেমন কো-ইন্সিডেন্স হয়? হয়তো হয়, আমরা জানি না বা বুঝতে পারি না! তেমনই একটি আড়ালে থেকে যাওয়া কো-ইন্সিডেন্স নিয়ে এগিয়েছে ‘লাইফ অব জলিল’ এর কাহিনী।
নিশোর সাথে সম্পর্ক করে সাফা তার বাবার চিকিৎসার কথা বলে টাকা নেয়। সেই টাকা দিয়ে অন্য একটা ছেলের জন্য বাইক কিনে। সাফা প্রতারণা করে সহজ সরল নিশোর সাথে। দগদগে একটা ঘা নিয়ে জীবন কাটাতে থাকে নিশো। অনেক দিন পর ঘটনাক্রমে নিশো বিয়ে করে সাফাকে, কিন্তু এই বিয়ে কি ভালোবাসার বিয়ে নাকি অন্যকিছু?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে এমন একটা উত্তর পাবেন যা চিন্তাও করতে পারবেন না! আর এখানেই মুন্সিয়ানা দেখানোতে সিদ্ধহস্ত তরুণ নির্মাতা ভিকি জাহেদ। ভিকি জাহেদের নির্মাণ মানেই শেষে একটা জোর ধাক্কা, জলিলও খেয়েছে সেই ধাক্কাটি, আর জলিলের সাথে সাথে ধাক্কা খাচ্ছে দর্শক।
দারুণ মেকিং, প্রেজেন্টেশন আর আফরান নিশো ও সাফা কবিরের অভিনয় মুগ্ধ সব দর্শক।

১০/ মধ্য রাতের সেবা:

ঈদের নাটক মধ্য রাতের সেবা এখন ভাইরাল। নাটকটি যারা দেখেছেন নাটকের শেষদৃশ্যে এসে তারা কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। অঝর ধারায় দুচোখের জল ফেলেছেন।
অসংখ্য দর্শক নাটকের শেষ দৃশ্যের ফুটেজটি তাদের ফেসবুক এ্যাকাউন্টে ট্যাগ করেন। ব্যস্! এতেই সোস্যাল মিডিয়ায় হৈচৈ পড়ে যায়। একদিনেই এর ভিউয়ার্স সংখ্যা লাখ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর শেয়ারের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। দর্শকদের হাজার হাজার মন্তব্য সত্যিই হৃদয় ছোঁয়া। নাটকটি রচনা করছেন সুবাতা রাহিক জারিফা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বেনু শর্মার অসাধারণ চিত্রনাট্য এবং রাশেদ সীমান্তের নজরকাড়া অভিনয়ের প্রশংসা করছেন সবাই। জিয়াউর রহমান জিয়া পরিচালিত এ নাটকে রাশেদ সীমান্তর সহশিল্পী ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা। আরো অভিনয় করেছেন, মাজনুন মিজান, আনোয়ার হোসেন আনু, কালে খা, ইকবাল হোসাইন, বরিশালের বাদল।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন