সারাদেশ

শাহ আরফিন টিলায় অভিযানে ওসির আচরন নিয়ে প্রশ্ন জনমনে

সিলেট প্রতিনিধিঃ অবৈধভাবে বোমামেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলায় অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স। বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের নির্দেশে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জীর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

টাস্কফোর্সের অভিযানে ২২টি সেলো মেশিন ও ২টি বোমামেশিন ধ্বংস, ১টি ট্রাক্টর গাড়ি ও ২টি বোমামেশিন জব্দ করা হয়। ১৬টি পাথরবাহী ট্রাক্টর গাড়ির চাকা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি বিকল, ৪ হাজার ফুট পাইপ ও ১২টি ডিজেল ভর্তি ড্রাম ধ্বংস করা হয়। যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৭৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। তবে এই অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্নের ডালপালা মেলেছে। সৃষ্টি হয়েছে নানা ধরনের বিভ্রান্তি।

অভিযানকে কেন্দ্র করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণেরও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযানের সময় প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, শাহ আরফিন টিলায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে একটি বোমামেশিন জব্দ করে পুলিশ। কিন্তু জব্দকৃত বোমামেশিনের গর্ত ছাড়াও পাশের গর্তে ১টি, পশ্চিমের গর্তে ২টি ও উত্তরের গর্তে ২টি বোমামেশিন চললেও পুলিশ শুধু সেই একটি মেশিনই জব্দ করে। শুধু তাই নয় ওই ৫টি বোমামেশিন মালিকের প্রতিনিধিরা ওসিকে মোটা অংকের টাকা প্রদান করায় তিনি সেই মেশিনগুলো জব্দ করেননি বলেও জানান স্থানীয়রা। যা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অবশেষে সন্ধায় এএসপি (সার্কেল) নজরুল ইসলাম সেখানে ওসিকে নিয়ে উপস্থিত হয়ে আরো একটি বোমামেশিন জব্দ করেন।

এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক পাথর ব্যবসায়ীরা জানান, বোমামেশিন জব্দ ও ধ্বংস করার পর সেই সব মেশিন মালিক ছাড়াও ওসি তাজুল একাধিক ব্যক্তির নামেও মামলা দিয়ে থাকেন। যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার সামিল। আবার কখনো কখনো অভিযানের পর ওসি থানায় গিয়ে প্রথমে পাথর ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করেন। পরবর্তীতে সেই সব ব্যবসায়ীদের ফোন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের নাম কর্তন করে মামলা রুজু করেন। আবার কখনো নিরপরাধী স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বাসিন্দাদেরও মামলার অাসামী করে থাকেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে ওসি তাজুলের বিরুদ্ধে। যে কারনে পুলিশী অভিযানের নাম শুনলেই আতকে ওঠেন বিভিন্ন পাথর ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার লোকজন।

জানা যায়, বিগত কয়েকদিন আগেও শাহ আরফিন টিলায় চলতো ওসি তাজুলের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। সেখানে ওসির মনোনীত শফিক মাঝি ও মোশারফ নামের দুইজন প্রতিদিন প্রায় শতাধিক বোমামেশিনের প্রতিটি থেকে আদায় করতো ৫ হাজার টাকা করে। প্রায় তিন শতাধিক পাথরের গর্তের প্রতিটি থেকে অাদায় করা হতো ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা করে। রয়্যালিটি নামক ঘাট থেকেও প্রতি সাপ্তাহে ওসির সম্মানী ভাতা দেয়া হতো ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা করে। অাবার মাঝে মধ্যে ওসির নামে “স্পীড মানি”ও পাঠানো হতো থানায়। যে কারনে একদিন টাকা কম হলেই অভিযান পরিচালনা করা হতো উক্ত টিলায়। মামলা দেয়া হতো নামে বেনামে লোকজনদের বিরুদ্ধে। ওসির এহেন কার্যকলাপে অস্তিত্ব সংকটে পরেছিলো শাহ অারফিন টিলা। জনমনে সৃষ্টি হয়েছিলো ক্ষোভ অাবার অাতংক। ভয়ে প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলেন অনেকে।

অারো জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান অাহমদ সিলেট সফর শেষে ঢাকায় রওয়ানা দেওয়ার আগ মুহুর্তে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ওসি তাজুলকে কঠোরভাবে হুশিয়ারী সংকেত প্রদান করেন এমনকি ওসিকে নির্দেশ দেন বোমামেশিন উচ্ছেদ করতে। যার প্রেক্ষিতে ওসি নিজেকে রক্ষা করতেই চালাচ্ছেন অভিযান। করছেন মামলা দোষী ও নির্দোষীদের বিরুদ্ধে। ওসির অবস্থা এমন যেন, “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি”। স্থানীয়দের দাবী ওসির বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও পাথরখেকোদের প্রতি নিজের প্রত্যক্ষ মদদের অভিযোগ অাড়াল করতেই অভিযানের নামে করে থাকেন এতসব নাটকীয়তা।

এদিকে ওসির এমন পক্ষপাতদুষ্ট অাচরণ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসীরা।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রথমে একটি বোমামেশিন জব্দ করা হলেও পরবর্তীতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে পে-লোডার মেশিনের মাধ্যমে বিকাল ৫ টায় আরেকটি বোমামেশিন জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ওসি তাজুল ইসলামকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন