বিনোদন

ভালো-মন্দের ২০১৯

২০১৯ সাল ছিল কারও কাছে ব্যস্ততম একটি বছর। আবার কারও কাছে ছিল হতাশার। কেউ হয়েছেন সমালোচনার শিকার বা কুড়িয়েছেন প্রশংসা। বছরটিকে আজীবন মনে রাখবেন কেউ কেউ, আবার নতুন বছরে গন্ধ ভুলতে চাইবেন অনেকেই। এরপরও তারকাদের রয়েছে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি। কেমন কাটলো তাদের চলতি বছর। সেসব জানতেই ঢাকাই শোবিজ অঙ্গনের বেশ কয়েজন তারকার সঙ্গে কথা হয়েছে-

ফেরদৌস আহমেদ : ২০১৯ সাল নানা করণেই আমার কাছে বিশেষ কিছু হয়ে থাকবে। তারমধ্যে অন্যতম হলো পঞ্চমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া। সত্যিই এ অভিজ্ঞতাটি অসাধারণ। এমন একটি বছরকে চাইলেও ভুলতে পারব না। একজন শিল্পীর জন্য এটা রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে এটি গ্রহণ করতে পেরে আমি সত্যিই আন্দোলিত। আলোচনা সমালোচনা হবেই, তবে সবসময়ে চেষ্টা করেছি স্বচ্ছ থাকতে। বছরের শেষ দিকে কিছু অসাপ্ত কাজ আবারও শুরু করেছি। তারমধ্যে ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ সিনেমা অন্যতম। এ ছাড়াও সম্প্রতি লন্ডনে জি এম ফুরুকের ‘যদি আরেকটু সময় পেতাম’ সিনেমার কাজ শেষ করেছি। সব মিলিয়ে বছরটি মন্দের চেয়ে ভালোই গিয়েছে।

আরিফিন শুভ : প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার জন্য আমি এ পুরস্কার পেয়েছি। একজন শিল্পীর কাজে এমন স্বীকৃতি সত্যিই আনন্দের। এ প্রাপ্তি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করবে। এ ছাড়াও এ বছর বেশ কয়েকটি ভালো ভালো কাজ করেছি। তারমধ্যে ‘মিশন এক্সট্রিম’ অন্যতম। আর ‘সাপলুড’ু সিনেমা প্রচারিত হওয়ার পর দর্শকের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা ভুলবার নয়। সত্যি বলতে অসাধারণ একটি বছর কাটিয়েছি আমি।

সায়মন সাদিক : অন্য সব বছরের তুলনায় এ বছর আমার কাছে বেশি অর্থবহ। কারণ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনটা এ বছরেই হয়েছে। ‘জান্নাত’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি, একজন অভিনয় শিল্পীর জন্য এটি অনেক বড় পাওয়া। ফলে এ বছরটি আমি চাইলেও ভুলতে পারব না। আমার কাছে মনে হয়েছে ২০১৯ আমার আনন্দঘন বছরের মধ্যে অন্যতম।

নুসরাত ইমরোজ তিশা : আমি সবসময় বলি প্রতিটি বছরই আমার কাছে  গুরুত্বপূর্র্ণ। তবে এ বছরটি  জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির ফলে আরও অর্থবহ হয়েছে। কাজের স্বীকৃতি পেলে কার না ভালো লাগে? আর সেটা যদি হয় রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার, তবে তো কথাই নেই। বড় পর্দা কিংবা ছোট পর্দায় আমার যে কাজই প্রচারিত হয়েছে, দর্শক মনখুলে গ্রহণ করেছেন। তাদের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। এ ছাড়াও এ বছর প্রথমবারের মতো প্রযোজনার খাতায় নাম লিখেছি। অর্থাৎ বেশ কিছু নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। তাই বছরটি আমার কাছে একটু হলেও আলাদা হয়েই থাকবে।

দিলশাদ নাহার কণা : এ বছর সংগীত জীবনের বাইরেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ ফুরফুরে ছিলাম। কারণ এ বছর বিয়ে করেছি। অফিসিয়ালি জীবনসঙ্গী হিসেবে একজন মানুষকে আজীবনের জন্য কাছে পেয়েছি। এটাও কম নয়। আর গানের কথা বললে, ২০১৯ সালে আমার অনেকগুলো গান হিট হয়েছে। কয়েকটা গান আগের রেকর্ড ভেঙেছে। সবার কাছে কৃতজ্ঞ, যারা প্রতিনয়ত আমার কাজকে পছন্দ করেন। কদিন আগে দুটি সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছি। আরও কয়েকটি পেস্নব্যাকের কথা রয়েছে। শিগগিরই সেসবে গাইবো। বর্তমানে স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত আছি। এবারের মতো এত ব্যস্ত সময় আগে কাটাইনি। সবকিছু হিসাব করলে দারুণ একটি বছর কাটিয়েছি।

সাফা কবির : এ বছর আমার ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। অনেক কিছু শিখেছি। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, অনম বিশ্বাসের ‘এই গল্পের নাম নেই’, আশফাক নিপুণের ‘আগুন্তক’ অন্যতম। এ ছাড়া ‘বিয়ে করা বারণ’ নাটকটির জন্য ২০১৯ আমার কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, এ নাটকটির গল্প ভাবনা আমার। এটি নির্মাণ করেছেন তপু খান। আর প্রযোজনা করেছেন হাসিফ চৌধুরী। তারা দুজন পাশে না থাকলে, আমার গল্পকার হওয়া হতো না। আমার কাছে আরও ভালো লেগেছে, নাটকটি প্রচারিত হওয়ার পর দর্শকরাও ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করেছেন। এ আনন্দ দু’এক লাইনে শেষ করা যাবে না। এ বছর নতুন নতুন অনেক কাজ করেছি। অন্য সময় যেসব বিউটি প্রডাক্টের হয়ে কাজ করা হয়নি, এবার সেসবও করেছি। পুরো বছর জুড়েই কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এক কথায় ব্যস্ততম একটি বছর অতিবাহিত হচ্ছে।

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন