বিনোদন

পুঁথিবিষয়ক গবেষক মিলন, সংবাদ প্রতিবেদক অর্ষা

এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে পুঁথি পাঠের চল ছিল। জামাইয়ের পুঁথি পাঠ ছিল শ্যালিকাদের অন্যতম প্রধান আনন্দ ও বিনোদন। কিন্তু তাতে ‘জ্ঞানে’র কথাও থাকত। থাকত যুদ্ধবিগ্রহ ও প্রণয়ের কথা। সে জন্য পুঁথিসাহিত্যে যেমন প্রণয়কাব্য থাকত, তেমনি থাকত ‘জঙ্গনামা’। নবী-আউলিয়ার জীবনকাহিনী যেমন থাকত, তেমনি থাকত ধর্মাশ্রিত জীবনী অথবা কাব্য। বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে বর্ণমালাটি বিলুপ্ত হতে চলেছে। নতুন প্রজন্মের গবেষকদের পুঁথিবিষয়ক গবেষণায় উৎসাহিত করলে অনেক অজানা বিষয় উদ্ধার হবে। সেই ধারাবাহিকতায় নির্মাণ করা হচ্ছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পুঁথিকর’।

ফেরারি ফরহাদের রচনায় ‘পুঁথিকর’ স্বল্পদৈর্ঘ্যেটি পরিচালনা করেছেন অপূর্ব রানা। এটি পুবাইলে এর বিভিন্ন লোকেশনে দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। এতে অর্ষাকে সাংবাদিকের চরিত্রে দেখা যাবে। তার বিপরীতে পুঁথি গবেষকের ভূমিকায় অভিনয় করছেন অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ। এছাড়া একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন আতিকা রহমান মম।

অপূর্ব রানা বলেন, পুঁথিসাহিত্য আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এটি এখন আর শোনা যায় না। তাই এ বিষয় নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি। এটি আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মিলন বলেন, পুঁথিসাহিত্য আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এমন একদিন ছিল, যখন ঘরে ঘরে ছিল পুঁথি। দিনের আলো নিভে গেলেই কুপি জ্বালিয়ে শুরু হতো পুঁথিপাঠ। পুঁথি-পাঠককে ঘিরে সবাই জড়ো হতেন এবং মনোযোগ সহকারে শুনতেন। প্রাচীনকালে মূলত প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষেরাই ছিল পুঁথি অনুরাগী। তাদের লেখাপড়া ও চিন্তাভাবনার পরিধি আটপৌরে হলেও অন্যরা যে একে অন্যকে অবহেলা করত, তা কিন্তু নয়। সেকালে পুঁথি ছিল সার্বজনীন। শিশু-কিশোর-বয়স্ক নির্বিশেষে সবার কাছেই পুঁথিসাহিত্যের অনুপম কাহিনী-আখ্যানগুলো ছিল অমৃততুল্য। এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হারানো ঐতিহ্য পুঁথি বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তাই আমার বিশ্বাস এমন একটি ভিন্নধর্মী কাজ সবার ভাল লাগবে।

অর্ষা বলেন, পুঁথিসাহিত্য আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এমন এক সময় ছিল যখন ঘরে ঘরে ছিল পুঁথি। দিনের আলো নিভে গেলেই কুপি জ্বালিয়ে শুরু হতো পুঁথি পাঠ। পুঁথি-পাঠককে ঘিরে মানুষ জড়ো হতো এবং মনোযোগ সহকারে শুনত। আধুনিক যন্ত্র-সভ্যতার দাপুটে বাস্তবতায় প্রাচীন পুঁথিকাব্য, পুঁথিকাহিনি বিস্মৃত ও বিলুপ্তপ্রায়। এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হারানো ঐতিহ্য পুঁথি বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের কনসেপ্ট নিয়ে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সচরাচর কাজ হয় না। এমন ভিন্নধর্মী কাজ অনেকের ভালো লাগবে বলেই বিশ্বাস। আর দর্শক পছন্দ করলেই আমাদের পুরো টিমের পরিশ্রম সার্থক হবে।’


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন