লাইফষ্টাইলস্বাস্থ্য

স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় আমড়া

সারা বছরই পাওয়া যায় এমন সহজলভ্য ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আমড়া। ফলটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্হ্যকরও বটে। এটি অম্ল ও কষ স্বাদযুক্ত একটি ফল। প্রতিটি আমড়ায় তিনটি আপেলের সমান পুষ্টিগুণ রয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যারোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য পরিমাণে প্রোটিন, পেকটিন জাতীয় ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এই উপাদানগুলো শুধু মুখের রুচি বাড়াতেই ভূমিকা রাখে না, একইসঙ্গে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।জেনে নিন আমড়ার আরও নানা পুষ্টিগুণের কথা-

রুচি বাড়ায়অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে আমড়ার জুড়ি মেলা ভার। আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয় এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু অসুস্থ নয়, সুস্থ ব্যক্তিরাও রুচি বাড়াতে নিয়মিত ফলটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়আমড়া রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে স্ট্রোক ও হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেআমড়াতে বিদ্যমান পেকটিন জাতীয় ফাইবার বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কাজেই প্রতিদিন এ ফলটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।ক্যান্সার প্রতিরোধ করেআমড়ায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব হয়।ত্বকের সুরক্ষা দেয়ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে আমড়া। শুধু তাই নয়, ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার। যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্যও আমড়া খুবই উপকারী।স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করেবিভিন্ন প্রকার ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমড়া। এতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় তা স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এমনকি সর্দি-কাশি-জ্বরের উপশমেও এটি উপকারী।ক্যালসিয়ামের ভালো উৎসক্যালসিয়ামের ভালো উৎস আমড়া। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে যা শিশুর দৈহিক গঠনে সাহায্য করে। কাজেই শিশুদের নিয়মিত ফলটি খাওয়ান।রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করেআমড়ায় বিদ্যমান ভিটামিন সি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এটি খাদ্যে থাকা ভিটামিন এ এবং ই সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে।আমড়া কাঁচা-পাকা কিংবা রান্না করেও খাওয়া যায়। চাইলে আমড়ার আচার, চাটনি এবং জেলি বানিয়েও খেতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আমড়ায় অনেক পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে যা মুখের রুচি বাড়ানোর পাশাপাশি হজমেও ভূমিকা রাখে। তাই তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর আমড়া খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন