লাইফষ্টাইলস্বাস্থ্য

বন্ধুত্বে রোগমুক্তি!

‘বন্ধু’ দুই অক্ষরের একটি শব্দ। এ শব্দের মাঝে মিশে আছে যেন পৃথিবীর সব প্রশান্তির ছায়া, নির্ভরতার বিশ্বস্ত নাম। সুখ কিংবা দুঃখ। সবসময় রক্ষাকবজ হিসাবে কাজ করে বন্ধু। বন্ধুরা শুধু সুখের সময় উপহার দেয় না। সেই সঙ্গে আমাদের সুস্থ থাকার পথকেও প্রশস্ত করে। তাইতো হতাশা এবং কষ্টের মাঝেও আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারি। আসলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক নানাভাবে আমাদের শরীর এবং মনের উপর প্রভাব ফেলে বলেই আমরা নতুন করে বাঁচার অর্থ খুঁজে পাই। আবার একাধিক গবেষণায়ও দেখা গেছে, যার যত বেশি বন্ধু, সে তত বেশি রোগ মুক্ত!বন্ধুত্ব আয়ু বাড়ায়

২০১০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে মানুষের বন্ধুর সংখ্যা যত বেশি, সে তত বেশিদিন বাঁচে। আর যাদের সোশ্যাল লাইফ বলতে কিছুই নেই, তাদের সময়ের আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আসলে বন্ধু মানে তো শুধু একটা মানুষ নয়, বৃহত সমাজের একটা শক্তিশালী অংশ। তাই তো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আমাদের সঙ্গে সমাজের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। ফলে স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদের মতো রোগের প্রকোপ কমতে শুরু করে। আর একবার এমনটা হলে স্বাভাবিক ভাবেই আয়ু বৃদ্ধি পায়। গত এক দশকে যে রোগ বেশি সংখ্যক অল্প বয়সিদের প্রাণ নিয়েছে, তার প্রায় সবকটির সঙ্গেই স্ট্রেসের সরাসরি যোগ রয়েছে।শরীর আরও কর্মক্ষম হয়গত দু দশকে সারা বিশ্বজুড়ে হওয়া চারটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়শই আড্ডা দিয়ে থাকেন তাদের ব্লাড প্রেসার, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা এবং হার্ট ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। অন্যদিকে বন্ধুহীন মানুষদের অবস্থা কী হয়, তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একদল গবেষক ন্যাশনাল আকাডেমি অব সাইন্সে বলেছিলেন, বন্ধুত্বের পরশ যাদের গায়ে লাগে না তারা সাধারণ মানুষদের তুলনায় ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস এবং হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এখানেই বন্ধুত্বের গুরুত্ব।মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়েজার্নাল অব নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি অ্যান্ড সাইকিয়াট্রি-তে প্রকাশিত বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে, একাকিত্বের সঙ্গে ডিমেনশিয়ার মতো রোগের সরাসরি যোগ রয়েছে। দেখা গেছে, যেসব মানুষদের সঙ্গে বন্ধুদের সেভাবে যোগাযোগ হয় না, তারা এতটাই একা অনুভব করতে থাকেন যে ব্রেনের সেলগুলি শুকতে শুরু করে। ফলে প্রথমে মনোযোগ হ্রাস পেতে পেতে একসময় স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। আর যারা প্রতিনিয়ত বন্ধুদের মাঝে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে ব্রেন সেলেগুলির কর্মক্ষমতা বাড়ার কারণে শুধু স্মৃতিশক্তির উন্নতি হয়, তা নয়। সেইসঙ্গে বুদ্ধি এবং মনোযোগেরও উন্নতি ঘটে।ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কমায়২০০৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধুদের দলে কোন একজন যদি মোটা হয়, তাহলে কোন এক অজানা কারণে বাকিদের উপরও তার প্রভাব পরে। একই ঘটনা ঘটে যখন কোন বন্ধু জিমে জয়েন করে, তখন তার দেখাদেখি বাকি বন্ধুরাও তার লেজুড় হয়। এমনটা কেন হয় জানেন? একে বলে ‌‘পিয়ার প্রেসার’। সহজ কথায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক যেমন আমাদের ভাল কাজ করতে প্রভাবিত করে, তেমনি খারাপ কাজেও ইন্ধন যোগায়। তাই তো চিকিৎসকেরা এমন মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে বলেন যারা স্বাস্থ্য সচেতন। এবার নিশ্চয় বুঝেছেন বন্ধুত্বের সঙ্গে ওজন কমার কী সম্পর্ক আছে।খারাপ সময় সহজে কাটেব্রেকআপ হোক কি অন্য কোনও কারণে মন খারাপ। বন্ধু পাশে থাকলে চিন্তা নেই। সময়টা কোনদিন দিয়ে চলে যাবে বুঝতেই পারবেন না। কারণ বন্ধুদের বোঝানোর মধ্যে অাজব এক শক্তি থাকে, যা মন খারাপের মেঘকে নিমেষে সরিয়ে দিয়ে আশার আলো নিয়ে আসে। ফলে মানুষ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে, জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পায়।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন