স্বাস্থ্য

মায়ের পুষ্টিকর খাবারে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি ৬০ ভাগ কমে

গর্ভধারণের শুরুতেই নারীকে পুষ্টিকর খাবার দিলে শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি অর্ধেকের চেয়েও বেশি কমে আসে বলে আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের-আইসিডিডিআর,বির এক গবেষণায় বলা হয়েছে।
মহাখালীতে আইসিডিডিআর,বির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে এ গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
‘শিশুর বেঁচে থাকা, বৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং দুরারোগ্য ব্যাধি চিহ্নিতকরণের উপর মাতৃত্ব ও শিশুকালীন সময়ে পুষ্টি কার্যক্রমের প্রভাব’ শীর্ষক এই গবেষণা চাঁদপুরের মতলবের নারী ও শিশুদের উপর ১৫ বছর ধরে পরিচালিত হয়।
২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া এ গবেষণায় মতলবের ৪ হাজার ৪৩৬ জন নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই মা ও শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছেন।
অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লার্স অক পারসন ও ইভা শার্লট এক্সট্রম।
এ গবেষণায় আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ও প্রতিষ্ঠানটির সহযোগীরা ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীরা বর্তমান প্রজন্মের মানুষের মধ্যে অপুষ্টিজনিত দুষ্টচক্র ভাঙ্গার সম্ভাব্য উপায় বের করতে কাজ করেছেন।
গবেষণার অংশ হিসেবে মতলবের ৪ হাজার ৪৩৬ জন নারীকে গর্ভকালের শুরু থেকেই পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হয়। পরে ১৫ বছর ধরে ওই মা ও তাদের শিশুদের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, “যে মায়েরা গর্ভকালের শুরুতেই অপুষ্টিকর খাবার খান তাদের শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে সেটি ৬০ ভাগ কমিয়ে আনা যায়।
“শিশুর ভ্রুণকালীন অথবা শৈশবের পুষ্টিজনিত ভারসাম্যহীনতা তার জন্য স্বল্প ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশু বেড়ে ওঠার শুরুতেই পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হলে সেটি স্বাস্থ্যগত, বেড়ে ওঠা ও মেধা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
সারা বিশ্বে বছরে প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে অপুষ্টিকে দায়ী করে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সব রোগের অর্ধেকের কারণ হল অপুষ্টি।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের আবাসিক প্রতিনিধি সিমা সেন গুপ্ত বলেন, “এ গবেষণার মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে, যার মাধ্যমে পুষ্টিহীনতার কারণে একটি শিশু কতটা ঝুঁকির মধ্যে চলে যায় তা স্পষ্ট বোঝা যায়।
“সমাজে যারা অপুষ্টিতে ভুগছে তাদের প্রতি সহযোগিতা বাড়িয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়নে এই গবেষণার ফলাফলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
আইসিডিডিআর,বির সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মুঞ্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (স্বাস্থ্য) মার্সেলা লিজানা, আইসিডিডিআর,বির মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক শামস-ই-আরেফিন।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন