লাইফষ্টাইলস্বাস্থ্য

কদবেলের নানা গুণ!

মৌসুমী ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কদবেল। টক স্বাদযুক্ত এই ফলটি কিন্তু কম বেশি সকলেরই প্রিয়। এটি সুস্বাদু ভর্তা, শরবত কিংবা চাটনি বানিয়েও খাওয়া যায়। শক্ত খোলসে আবৃত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটি পুষ্টিগুণেও অনন্য। কদবেলে খাদ্যশক্তি, খনিজ, আমিষ, শর্করা, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি প্রভৃতি নানা উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শুধু শরীরে প্রশান্তি এনে দেয় না, শরীর সুস্থ্য রাখতেও সাহায্য করে। আবার কিডনির সুরক্ষারও কদবেলের জুড়ি মেরা ভার।

কদবেলের আরও নানা গুণ-

পেটের রোগ নিরাময়ে

কদবেলে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন, লৌহ, পেকটিন প্রভৃতি রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া ও পেট ব্যথা ভালো করে। এর গাছের বাকল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়। কাঁচা কদবেল ছোট এলাচ, মধু দিয়ে মাখিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়। এই ফলের নির্যাস কলেরা এবং পাইলসের জন্য প্রতিষেধক ওষুধ হিসাবে কাজ করে।

কিডনির সুরক্ষায়

আয়ূর্বেদ শাস্ত্রে, কদবেল উদ্দীপক ও মূত্রবর্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাই এ ফল নিয়মিত খেলে কিডনি সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া কিডনির সমস্যা ও রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নিয়মিত কদবেল খেলে উপকার পাওয়া যায়। কদবেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে, যা শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। এছাড়া যকৃৎ ও হৃৎপিণ্ডের জন্য বেশ উপকারী কদবেল।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে

কদবেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ুর শক্তি জোগায়। তাই কদবেল খেলে গরম কম লাগে। ত্বকের জ্বালাপোড়া কমাতে কদবেল মলম হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে

কদবেলের খনিজ উপাদান ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। ডায়াবেটিসের আয়ুর্বেদী চিকিৎসায় কদবেল ব্যবহার হয়।

পেপটিক আলসারে

কদবেল পাতার রস পানির সঙ্গে নিয়মিত পান করলে পেপটিক আলসার দ্রুত ভালো হয়। আলসারের ক্ষত সারাতে তাজা কদবেল বেশ কার্যকরী।

শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসায়

কদবেল পাতার নির্যাস শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। দুধ-চিনির সঙ্গে কদবেলের পাতা মিশিয়ে এক ধরনের খাদ্য তৈরি হয়। এই রস শিশুদের পেট ব্যথার চিকিৎসায় চমৎকার কাজ করে।

রক্ত পরিস্কার করে

কদবেল রক্ত পরিস্কার করতে সাহায্য করে। বুক ধড়ফড় এবং রক্তের নিম্নচাপ রোধেও সহায়ক। গুড় বা মিছরির সঙ্গে কদবেল মিশিয়ে খেলে শরীরের শক্তি বাড়ে এবং রক্তস্বল্পতা দূর হয়।

কৃমি ধ্বংস করে

গলায় ঘা বা ক্ষত হলে, ঘন ঘন হেঁচকি উঠলে কদবেল খেলে দ্রুত সেরে যায়। এছাড়া কদবেলে বিদ্যমান ট্যানিন উপাদানটি অস্ত্রের কৃমিসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করে থাকে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

কদবেল মহিলাদের হরমোনের অভাব সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

রূপচর্চায়

কদবেল শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নয়, বরং রূপচর্চায়ও বেশ উপকারী কদবেল। ব্রণ ও মেছতায় কাঁচা কদবেলের রস মুখে মাখলে বেশ দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন