লাইফষ্টাইলস্বাস্থ্য

“জটিল রোগ সিজোফ্রেনিয়া “

দেশরির্পোট: ১৯১১ সালের সুইডেনের মনোচিকিৎসক বিউলার সিজোফ্রেনিয়ার শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। সিজোফ্রেনিয়া একটি জটিল মানসিক রোগ। সিজোফ্রেনিয়া শব্দটি এসেছে মূলত গ্রিক ভাষা থেকে। “সিজো” শব্দের অর্থ ভাঙা বা টুকরো এবং “ফ্রেনিয়া” শব্দের অর্থ মন। সুতরাং, সিজোফ্রেনিয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে, ভাঙা মন বা যে মন টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। মূলত, দুশ্চিন্তা থেকেই এই রোগের উৎপত্তি। আমেরিকার মনোচিকিৎসক ও সাইকোঅ্যানালিস্ট ব মনো বিশ্লেষকগণমন করেন যে, সিজোফ্রেনিয়া হলো কিছু কিছু আচরণগত অসামঞ্জস্যতা।

ছবিতে মেরী বড়ুয়া।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিজোফ্রেনিয়া রোগীর অস্বাভাবিক বিশ্বাস থাকে। এতে, তারা বিশ্বাসে সবসময় অবিচল থাকে। আর, বিশ্বাসগুলো হলো—–
★পারিবারিক
★সামাজিক
★রাজনৈতিক
★ধর্মীয়
★সংস্কৃতিগত
★শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

মানব মস্তিষ্কে নিউরণ বা স্নায়ুকোষেরর পরিমান অসংখ্য। এ সংখ্যাটি বিলয়ন পর্যন্ত হতে পারে। প্রত্যেক স্নায়ু ব নিউরণের শাখা- প্রশাখা থাকে যার সাহায্যে সে অন্য স্নায়ু বা মাংশপেশি বা অন্যককোনো গ্রন্থি থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করতে পারে। নিউরণ বা স্নায়ুকোষের শেষাংশ বা টার্মিনাল থেকে কিছু রাসায়নিক পদার্থ নি:সৃত হয়। এগুলোকে বলা হয় নিউরোট্রান্সমিটার। এগুলোর সাহায্যে মূলত নানা ধরণের উদ্দীপনা স্নায়ুকোষ থেকে স্নায়ুকোষে পরিবাহিত হয়। সিজোফ্রেনিয়া রোগে এই রকম যোগাযোগ ব্যবস্থায় দারুণভাবে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়।

সবদেশে, সব জাতিতে, সব সমাজে সিজোফ্রেনিয়া রোগীদের অপবাদ বা নিন্দা করা হয়ে থাকে। এদেরকে অনেকে পাগলও বলে থাকে। অথচ, মানসিক রোগীদের পাগল হিসেবে আখ্যায়িত করা একটি সামাজিক অপরাধ। এতে করে তাকে সামাজিকভাবে অপদস্ত করে আরও অবণতির দিকে ঠেলে দেয়া হয়। অথচ আমরা ভুলে যায়, আমরা যে কেউই এই জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারি যে কোনো সময়। তাই, কোনো মানসিক রোগীকেই অবহেলামূলক শব্দ দিয়ে ডাকা ঠিক নয়।

 

জেড/আর


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন