খেলাপ্রধান সংবাদ

সাব্বিরের বেপরোয়া আচরণ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে অতীতে শাস্তি পেয়েছেন সাব্বির রহমান। ঘরোয়া ক্রিকেটে তো তার আচরণ আরো বেপরোয়া। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আম্পায়ারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন, জড়িয়েছেন নারী কেলেঙ্কারিতেও। এবার যোগ হলো দর্শককে মারধর, ম্যাচ রেফারি ও বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকু) কর্মকর্তার সঙ্গে বাগিবতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ।

রাজশাহীতে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ষষ্ঠ রাউন্ডের খেলা চলাকালে ম্যাচ রেফারি শওকাতুর রহমান চিনুর সঙ্গে বাজে আচরণ করেন সাব্বির। ম্যাচ রেফারি এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন বিসিবিতে। গতকাল বণিক বার্তাকে বিষয়টি জানান জাতীয় ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও কোচিংয়ের দায়িত্বে থাকা খালেদ মাহমুদ সুজন।

বিসিবির সূত্র জানায়, রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে ১৯তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের খেলায় দ্বিতীয় দিন গ্যালারি থেকে সাব্বিরকে উদ্দেশ করে ১০-১২ বছরের একটি ছেলে মুখে বিড়ালের ডাক দেয়, যা ক্রিকেটারটি অপমানজনক মনে করেছেন। সেই সময় তিনি আম্পায়ার গাজী সোহেল ও তানভির আহমেদের কাছে অনুমতি নিয়ে মাঠের বাইরে চলে যান কিছুক্ষণের জন্য। এরপর সাব্বির ওই দর্শককে ডেকে এনে সাইট স্ক্রিনের পেছনে নিয়ে চড়-থাপ্পর মারেন। এ ঘটনার পরই ম্যাচ রেফারি শওকাতুরকে বিষয়টি অবহিত করেন রিজার্ভ আম্পায়ার শওকত আলী। এছাড়া ম্যাচ চলাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে মাঠে উপস্থিত আকুর এক কর্মকর্তার সঙ্গেও বাগিবতণ্ডা হয় সাব্বিরের, যা ম্যাচ রেফারির কান পর্যন্ত গড়ায়। পরে ঘটনা প্রসঙ্গে শুনানির জন্য ম্যাচ রেফারি সাব্বিরকে ডাকেন। শুনানিতে এসে ম্যাচ রেফারির সঙ্গে উদ্ধতপূর্ণ আচরণ করেন সাব্বির। এ বিষয়ে বিসিবিতে কোনো প্রতিবেদন দেয়া হলে ‘অসুবিধা হবে’ বলেও ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারকে হুমকি-ধামকি দেন ক্রিকেটারটি। তিনি তখন এও বলেন, মাঠের বাইরের ঘটনায় ম্যাচ রেফারির সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

বিষয়টি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন সুজন। তার ভাষায়, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অপরাধ। এ বিষয়ে ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট এসেছে। সাব্বিরেরও বলার কিছু আছে। আমি মনে করি, জাতীয় দলের ক্রিকেটার হয়ে কারো গায়ে হাত দেয়া ঠিক না। অনেকেই তার মতো হতে চায়। তাকে দেখে মানুষ শিখবে। সে এমন কাণ্ড ঘটালে বিষয়টি সত্যিই আপত্তিজনক। বোর্ড তো এখন এসব সহ্য করে না। ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদনের মূল্যায়ন হবে। তার পরই বোর্ড সিদ্ধান্ত জানাবে।’

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে জাতীয় দলের ক্যাম্প শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এ ব্যাপারে সাব্বিরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যেতে চাইলেন। তিনি বললেন, ‘আমি কিছু জানি না।’ পরক্ষণেই চিন্তিত মুখে বললেন, ‘দেখি, কী হয়।’

এদিকে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সোহেল বলেন, এখনো প্রতিবেদনটা হাতে পাননি। তার কথায়, ‘মৌখিকভাবে শুনেছি। যতটুকু শুনেছি, তাতে মনে হচ্ছে বড় শাস্তিই সে পাবে। মাঠে মোবাইলও ব্যবহার করেছে শুনেছি। ম্যাচ চলার সময় মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষেধ। প্রতিবেদন পাওয়া মাত্র তার শুনানি হবে। প্রতিবেদন দেখে যদি মনে হয় ওকে ডাকার প্রয়োজন নেই, তাহলে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’

উল্লেখ্য, বিপিএলের চতুর্থ আসর চলাকালে টিম হোটেলে নারী সঙ্গী নেয়ার অপরাধে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা সাব্বিরকে। বিপিএলের পঞ্চম আসরেও সিলেটে আম্পায়ারদের গালি দিয়ে তিনি বড় অংকের জরিমানা গোনেন।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন