বিনোদন

উজ্জ্বলের প্রথম চলচ্চিত্রে নতুন দুই মুখ-শার্লিন ও বর্ষণ

‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ সিনেমার নাম রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা আগেই দিয়েছেন ছোট পর্দার বড় নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। নাটকের জন্য দেশের প্রায় সব ‘বড়’ অভিনয়শিল্পীদের নিয়েই কাজ করেছেন তিনি। এবার তাহলে বড় পর্দার জন্য বেছে নিলেন কাকে? সদ্য গত হওয়া মাসে ছুঁড়ে দেওয়া এমন প্রশ্নের জবাবে অজানা কারণে গড়িমসি করেছেন। বলেছেন, নতুন বছরের প্রথম দিন নাম দুটো জানাতে চাই। তার আগে নয়।কথা রেখেছেন উজ্জ্বল। ৩১ ডিসেম্বর রাতে জানিয়েছেন, তার প্রথম সিনেমার নায়ক আর নায়িকার নাম। তারা হলেন শার্লিন ফারজানা ও ইমতিয়াজ বর্ষণ। নামে চিনতে কষ্ট হচ্ছে! স্বাভাবিক। দু’জনেই এই অঙ্গনে প্রায় নতুন।‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’-এর মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটছে ছোটপর্দার অভিনেত্রী শার্লিন ফারজানার। তার সঙ্গে সহশিল্পী হিসেবে বড়পর্দায় নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটছে ইমতিয়াজ বর্ষণের।

উজ্জ্বল  বললেন, ‘এবার বড় পর্দার জন্য দু’জন ছোট মানুষকে চূড়ান্ত করলাম। শুটিংও প্রায় শেষের কাছাকাছি। আমি স্বস্তিতেই আছি।’ তারকাদের বাইরে গিয়ে নতুন এ দু’জনকে নিয়ে কাজ করার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আগ্রহ নিয়েই। তার ভাষায়, ‘এটা চেনা গল্পের চলচ্চিত্র নয়। এই গল্পের বাঁকে-বাঁকে আগাম অনুমান করা সম্ভব নয়। এখানে মূল চরিত্র অয়ন ও নিরাকে খোঁজার পেছনে একটা বিষয় আমরা খুব ভেবেছি। সেটা হলো তাদের হাসি, কান্না, প্রেমের অভিব্যক্তি মানুষের কাছে অচেনা হতে হবে। সুতরাং শুরুতেই বড়সড় তারকা শিল্পী থেকে সরে আসতে হয়েছে। সব কিছু দেখে বুঝে শার্লিন ও বর্ষণকে চূড়ান্ত করেছি।

উজ্জ্বল জানান, অয়ন ও নিরা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শুটিংয়ে যাওয়ার আগে টানা ৩ মাস লাইট ও ক্যামেরার সামনে মহড়া করা হয়েছে শার্লিন ও বর্ষণকে নিয়ে।

‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ এর নামকরণ ও ধরন প্রসঙ্গে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল বলেন, ‘‘সবার জীবনেই কিছু অনুভূতি থাকে যা ভাষা, প্রতীক বা শব্দে প্রকাশ করা যায় না। অনুভবগুলো অনুভূত হতে হতেই যেন তার প্রকাশের আকৃতি বদলে যায়। এই রকম অনুভূতির ইংরেজি তর্জমা হতে পারে- ইনকমপ্লিট ব্রেথ। এই অসম্পূর্ণ প্রশ্বাসের চলচ্চিত্র ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। গল্পটা প্রেমের, যে প্রেম কোলাহলকে পরিণত করতে পারে নির্জনতায়।’’

শারলিন ফারজানা জানান, তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ ছবিতে দুটি চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ‘নিরা’ চরিত্রের জন্য তাঁকে চূড়ান্ত করা হয়। বললেন, ‘চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খুব মজা পেয়েছি। মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র, তাই চরিত্রটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এর মধ্যে অনেক দিন নতুন কোনো কাজ করিনি।

ইমতিয়াজ বর্ষণ জানান, তিনি চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। কাজ করছেন মঞ্চেও। ছিলেন তির্যক নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য। এখন অতিথি শিল্পী হয়ে নাটকের বিভিন্ন দলের সঙ্গে কাজ করেন। ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ তাঁর চতুর্থ ছবি। এর আগে তিনি ওয়াহিদ তারেকের ‘আলগা নোঙর’, এন রাশেদ চৌধুরীর ‘চন্দ্রাবতী কথা’ আর অঞ্জন সরকারের ‘ক্ষত’ ছবিতে অভিনয় করেছেন।

তিনি আরও বললেন, ‘মাসুদ হাসান উজ্জ্বল অনেক গুছিয়ে কাজ করেন। খুব পরিপাটি। কোথাও এতটুকু ছাড় দেননি। শুটিং শুরুর আগে সেপ্টেম্বর আর অক্টোবর মাসে মহড়া করেছি। সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার ঢাকায় আসতাম, মহড়া শেষে রোববার গিয়ে অফিস করতাম।’

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড অক্টোবরের ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন আসিফ হানিফ, নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বে আছেন সৈয়দা শাওন। পরিচালনার পাশাপাশি ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’-এর কাহিনি, সংলাপ, চিত্রনাট্য, শিল্প নির্দেশনা এবং সংগীত পরিচালনা করছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নিজেই। ইতিমধ্যে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শেষের পথে। চলছে সম্পাদনার কাজ।আর ছবিটি মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ তুলে রেখেছেন আসছে পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল)।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন