খেলাপ্রধান সংবাদ

প্রথম শ্রেণীতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল মুমিনুলের

স্পোর্টস রিপোর্টার : আগের দিনই কাজটা সেরে রেখেছিলেন। প্রথম দিন শেষে ১৬৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকা মুমিনুল হক দ্বিতীয় দিনেও পা হড়কাননি। তুলে নিয়েছেন প্রথম শ্রেণীতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে মুমিনুলের সর্বোচ্চ রান ছিল ২৩৯। এবার সেটিকেও টপকে গেকেন তিনি। ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে মুমিনুল খেলেছেন ২৫৫ বল। মেরেছেন ১৯ চার আর দুই ছক্কা। পরে ৩৪৪ বলে আউট হওয়ার আগে করেছেন ২৫৮ রান, যাতে মেরেছেন আরও ৪টি চার ও এক ছক্কা। বিকেএসপিতে দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে মুমিনুলের ডাবল সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড়ের গড়েছে পূর্বাঞ্চল। আগের দিন ৫ উইকেটে ৩৪০ রান নিয়ে খেলতে নেমে দুই বাঁহাতি মুমিনুল আর জাকির হাসানের ব্যাটের দাপটে খেটে মরেছে দক্ষিণের ছেলেরা। আউট হওয়ার আগে ১১৯ রান করেন জাকির। সবকটি উইকেট হারিয়ে পূর্বাঞ্চলের বোর্ডে জমা হয় ৫৪৬ রান। দক্ষিণাঞ্চল দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ১২৮ রানে।
১৬৯ রানে দিন শুরু করেছিলেন মুমিনুল। ৪৭ রান নিয়ে তার সঙ্গী ছিলেন জাকির হাসান। প্রতিভাবান দুই ব্যাটসম্যান দলকে টেনে নিয়ে যান আরও অনেক দূর। মুমিনুল প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ২৫৫ বলে। বাঁহাতি জাকির তার চতুর্থ সেঞ্চুরি পেয়ে যান ১৫২ বলে। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ২৩৩ রানের জুটি ভাঙে জাকিরের বিদায়ে। ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ১৬৯ বলে ১১৯ রানে সাকলাইন সজিবের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন জাকির।

মুমিনুলকে এরপর সঙ্গ দেন সোহাগ গাজী। মুমিনুল ছাড়িয়ে যান প্রথম শ্রেণিতে তার আগের সেরা ২৩৯ রানকে। ৩১ বলে ৩৫ করে আউট হন সোহাগ। এই জুটি ভাঙার পর অষ্টম উইকেট দ্রæত হারায় পূর্বাঞ্চল। মুমিনুলের তিনশর আশা ফিকে হয় আরও। শেষ পর্যন্ত নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। ২৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৪৪ বলে ২৫৮। দক্ষিণাঞ্চলের আব্দুর রাজ্জাক নেন ৬ উইকেট। তবে ৪০.৫ ওভারে অভিজ্ঞ স্পিনারকে খরচ করতে হয়েছে ১৭৮ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই নিয়ে ৩০ বার পেলেন ৫ উইকেট।

ব্যাটিংয়ের সাফল্য বোলিংয়ের শুরুতেও ধরে রাখে পূর্বাঞ্চল। ওয়ানডে দলে জায়গা হারানো সৌম্য সরকারকে ১৯ রানে ফেরান সোহাগ গাজী। এই অফ স্পিনার পরে ফেরান জাতীয় লিগে দারুণ পারফর্ম করা মেহেদি হাসানকে। অভিজ্ঞ ব্যাটসমান শাহরিয়ার নাফিসকে ২৯ রানে থামান নাজমুল অপু। দক্ষিণাঞ্চলের রান তখন ৩ উইকেটে ৫৯। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন তুষার ইমরান ও মোসাদ্দেক হোসেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ৬৯। ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৪২ রানে অপরাজিত মোসাদ্দেক।

এদিকে, সিলেটে দারুণ শুরু করা উত্তরাঞ্চলের ইনিংস হঠাৎ এলোমেলো তাসকিন আহমেদের ছোবলে। জবাব হয়ে এল জহুরুল ইসলামের ব্যাট। তার দুর্দান্ত অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংসে উত্তরাঞ্চল নিয়েছে বড় লিড। বিসিএলে সিলেটে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে বুধবার দ্বিতীয় দিন শেষে উত্তরাঞ্চলের রান ৭ উইকেটে ৪৩৩। আগের দিন মধ্যাঞ্চল গুটিয়ে গিয়েছিল ১৮৮ রানে।
এবারের বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে দারুণ কয়েকটি ইনিংস খেলেছেন জহুরুল। সেই ফর্ম এবার বয়ে আনলেন বড় দৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটেও। ১৫৬ বলে জহুরুল স্পর্শ করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বাদশ সেঞ্চুরি। আরও বড় কিছুর সম্ভাবনা জাগিয়ে দিন শেষে অপরাজিত তিনি ১৫২ রানে। ২৩২ বলের ইনিংসে ১৪ চারের সঙ্গে ছক্কা মেরেছেন ৫টি। আরেক ওপেনার মিজানুর রহমানের সামনে ছিল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা চার ইনিংসে সেঞ্চুরির হাতছানি। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেদিকেই। কিন্তু ৬৪ রানে ফিরতি ক্যাচ দেন মোশাররফ রুবেলকে। দিন শেষে ৩ উইকেট হাতে নিয়ে উত্তরাঞ্চল এগিয়ে গেছে ২৪৫ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
পূর্বাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চল
পূর্বাঞ্চল ১ম ইনিংস : ৮৩ ওভারে ৫৪৬ (আগের দিন ৩৪০/৫) (মুমিনুল ২৫৮, জাকির ১১৯, সোহাগ ৩৫, অপু ৮, শহিদ ০*, আবু জায়েদ ০; কামরুল রাব্বি ০/৭৬, জিয়াউর ০/২৫, রাজ্জাক ৬/১৭৮, সৌম্য ১/৪০, মেহেদি ০/১১৭, সাকলাইন ৩/৯৩, আল আমিন ০/১০, তুষার ০/৩)। দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংস : ৪১ ওভারে ১২৮/৩ (শাহরিয়ার ২৯, সৌম্য ১৯, মেহেদি ৯, তুষার ২২*, মোসাদ্দেক ৪২*; শহিদ ০/১৭, আবু জায়েদ ০/৪৭, সোহাগ ২/৩৯, নাজমুল অপু ১/২১)।
মধ্যাঞ্চল-উত্তরাঞ্চল
মধ্যাঞ্চল ১ম ইনিংস : ১৮৮। উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংস : ১১৬ ওভারে ৪৩৩/৭ (আগের দিন ৯৩/০) (শান্ত ৪৪, মিজানুর ৬৪, জুনায়েদ ১৩, নাঈম ০, জহুরুল ১৫২*, আরিফুল ৩৭, ধীমান ৯৩, শুভ ২, ফরহাদ রেজা ১৬*; তাসকিন ৩/১১৬, শরিফ ০/৫৩, মোশাররফ ২/৮৮, শুভাগত ২/১২২, তানবীর ০/৪৮)।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন