প্রধান সংবাদবিনোদন

‘নাচ যার রক্তে মিশে’ তিনিই হাবিব ডান্স কোরিওগ্রাফার

নাঈম তালুকদার: সুসং দুর্গাপুর কে না চিনে, কে না চিনে বাংলাদেশের একমাত্র চিনা মাটির পাহাড়কে। সেই পাহাড়ে দুরন্ত পনায় বেড়ে ওঠা ছেলেটিই আজকের ডান্স কোরিওগ্রাফার হাবিবুর রহমান হাবিব। কখনো পাহাড়ে, কখনো বনে বাদারে কখনো সবুজ ঘাসে নেচে গেয়ে বেরিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একজন হাবিব ডান্স কোরিওগ্রাফার।

অল্প বয়সে যখন নাচতেন তার বন্ধু বান্ধব সামনে তখন সবাই বলতো তুই একদিন ফিল্মে চান্স পাবি। আসলে নাচ তার রক্তে মিশে আছে সেই কারনেই হয়তো সখের বসেই ছুটে আসা ছেলেটি এফডিসির এক নাচের অনুষ্টানে প্রথম হয়ে এফডিসিতে প্রবেশ করেন।

তার মুলত ইচ্ছে ছিল ছবিতে দলীয় নৃত্য শিল্পী হিসেবে কাজ করে যাবেন। সুযোগ ও পেয়ে গেলেন নৃত্য পরিচালক কালুর মাধ্যমে। তার সহযোগীতায় দাঁড়িয়ে গেলেন দলীয় নাচে।
একদিন এফডিসি গেইট দিয়ে বের হচ্ছিলেন হাবিব। একটা গাড়ি থেকে তাকে একজন ডাক দিলো। ডাক দেয়া সেই লোকটি ছিলেন নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল।

গাড়ি চলতে থাকলো নরসিংদির দিকে। তিনি তার গাড়িতে উঠে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না কোথায় যাচ্ছেন কেন যাচ্ছেন।

নরসিংদি আসলে তিনি বুঝতে পারেন তিনি একটা ছবির সুটিং এসেছেন। মাসুম বাবুল তাকে ছবির একটি সিকুয়েন্স এর নাচ দেখিয়ে দিতে বললেন।

অঘোষিত ভাবে হয়ে গেলেন তিনি তার সহযোগী নৃত্য পরিচালক। তার পর টানা দশ বছর কাজ করে গেলেন তার সাথে । এভাবেই সবার চোখে পরে যান তিনি। তাকে সব হিরো হিরোইন বারবার নাচ দেখাতে বলতেন, আসলে তার নাচ সবার কাছেই ভালো লাগতো । হয়ে উঠলেন সবার প্রিয় এক মানুষ। একটি ছবিতে সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন তখন মনোয়ার হোসেন ডিপজল তাকে কিছু গানের নৃত্য পরিচালনার কথা বললেন। তার গুরু মাসুম বাবুলের সম্মতিতে প্রথম কাজ করলেন পুরো একটি ছবিতে।

এফ আই মানিকের পরিচালনায় চাচ্চু ছবির মাধ্যমে তার পুরোপুরি কাজ শুরু হয়। এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি করে ফেলেছেন ২০০ এর উপর ছবির নৃত্য পরিচালনার কাজ।

তার উল্লেখযোগ্য কাজ গুলো হচ্ছে চাচ্চু, এক টাকার বউ, আমার প্রানের স্বামী, কঠিম প্রেম, এক মন এক প্রান, জান কোরবান, তোর কারনে বেঁচে আছি, সাহেব নামে গোলাম, রাজনীতি, চল পালাই। তার মুক্তির অপেক্ষায় আছে এমন কাজ ও কিন্তু অনেক যেমন : নদীর বুকে চাঁদ, আসমানী, মেঘ কন্যা, মন দেব মন নেব।

তার উল্লেখ যোগ্য মিউজিক ভিডিও গুলো হচ্ছে আগুন, বউ এনে দে, বসন্ত, মাহিয়া, এক পলকে। চকলিটি পিয়া তার সর্বশেষ কাজ। এটি সংগীতার ব্যানারে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে হাবিব বলেন, আমি আন্তজাতিক মানে একজন ডান্স কোরিওগ্রাফার হতে চাই। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশ্ব দরবারে নৃত্যের  মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। তাদের কে দেখিয়ে দিতে চাই  আমাদের চলচ্চিত্রের বাজেট কম হলেও আমাদের দেশে সুন্দর কাজ করা সম্ভব। সবাই আমার জন্য দোয়া করেবেন আমি যে আমার ওস্তাদ, আমার গুরুজনদের আর্শিবাদে আমার লক্ষ্য পূরন করতে পারি।

 

জেড/আর


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন