খেলা

ফাইনালের আশা জিইয়ে রেখেছে হাতুরুসিংহের শিষ্যরা

প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে প্রায় ছিটকে পড়েছিল সাবেক টাইগার কোচ ও বর্তমান লংকান গুরু চন্ডিকা হাতুরুসিংহের শিষ্যরা। আজ রোববার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্রায়েম ক্রেমারদের বিপক্ষে দারুন জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের আশা জিইয়ে রেখেছে উপুল থারাঙ্গারা। বাঁচা-মরার ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছে শ্রীলংকা। ‘জয়ের বিক্ল্প শুধু জয়’ এই পণ নিয়ে আজ নিজেদের তৃতীয় ম্যাচটি শুরু করেন এ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে শুরুটা ভাল করতে পারেননি তারা। ব্যাটিংয়ে নেমে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও সলোমন মির দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতেই ৪৪ রান তুলে বড় সংগ্রহের আভাস দেন এ জুটি।

তবে একমাত্র ব্রেন্ডন টেলর, ম্যালকম ওয়ালার ও গ্রায়েম ক্রেমার ছাড়া তাদের দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি বাকি ব্যাটসম্যানরা। ফলে বড় স্কোরও গড়তে ব্যর্থ হয় জিম্বাবুয়ে। ৪৪ ওভারে ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি। দলের হয়ে ৮০ বলে ৬ চারে সর্বোচ্চ ৫৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন টেলর। ৪২ বলে ৩৪ রান করেন ক্রেমার। আর ওয়ালারের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। এদিন শ্রীলংকার সেরা বোলার থিসারা পেরেরা। একাই ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ধসিয়ে দেন তিনি। ৩ উইকেট নিয়ে তাতে সামিল হন নুয়ান প্রদীপ। পরের ইনিংসে ১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক শুরু করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা ও উপুল থারাঙ্গা। তবে হঠাৎই খেই হারিয়ে ফেলেন থারাঙ্গা। দলীয় ৩৩ রানে তেন্ডাই চাতারার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এ ওপেনার। এরপর কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পেরেরা। মেন্ডিসও তাকে দারুণ সঙ্গ দেন। এ জুটির দারুণ ব্যাটিংয়ে জয়ের পাল্লা হেলে পড়ে লংকানদের দিকে। কিন্তু হঠাৎ হার মানেন পেরেরা। দলীয় ১০৩ রানে ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হয়ে ফেরেন তিনি।

ফেরার আগে ৪৯ রান করেন এ ওপেনার। সঙ্গী হারিয়ে বেশিক্ষণ ক্রিজে স্থায়ী হতে পারেন মেন্ডিসও। দলীয় ১১০ রানে সেই মুজারাবানির বলি হয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ৩৬ রান করেন তিনি। স্কোর বোর্ডে আর ৭ রান যোগ হতেই ফেরেন নিরোশান ডিকভেলা। তিনিও শিকার মুজারাবানির। পরে আসেলা গুনারত্নেকে নিয়ে আগানোর প্রচেষ্টা চালান চান্দিমাল। তবে তাকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন গুনারত্নে। দলীয় ১৪৫ রানে কাইল জারভিসের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। গুনারত্নের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন থিসারা পেরেরা। তাকে নিয়ে ধীরে ধীরে জয়ের দিকে ধাবিত হতে থাকেন চান্দিমাল। শেষ পর্যন্ত সহজেই দলকে জয়ের বন্দরে নোঙর করান এ জুটি।

তাদের নান্দনিক ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৩১ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় লংকানরা। এদিন বোলিংয়ের মতো ব্যাট হাতেও চমক দেখান থিসারা। শেষ দিকে মাত্র ২৬ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এ হার্ডহিটার। অপর প্রান্তে খেলা ধরে রাখা চান্দিমাল অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। জিম্বাবুয়ের হয়ে মুজারাবানি ৩টি এবং তেন্দাই চাতারা ও কাইল জারভিস নেন ১টি করে উইকেট।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন