সারাবিশ্ব

পাকিস্তানে আটকেপড়া বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেবে পাকিস্তান

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকেপড়া বাঙালিরা দেশটির নাগরিকত্ব পেতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন তারা দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে তার সরকার। খবর বিবিসি ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

রোববার করাচিতে বাঁধ নির্মাণের তহবিল গঠনের জন্য এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ইমরান খান বলেন, বাংলাদেশের আড়াই লাখ মানুষ এখন করাচিতে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। ৪০-৫০ বছর ধরে তারা এ শহরে আছেন। তাদের সন্তানরাও এ শহরেই বড় হচ্ছে। কিন্তু তাদের না আছে পাসপোর্ট, না আছে পরিচয়পত্র। তিনি আরও বলেন, এগুলো না থাকলে চাকরি হয় না। চাকরি হলেও তাদের বেতন হয় অর্ধেক।

সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচি শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, এসব শরণার্থীর জন্য শিক্ষা এবং চাকরির বাজার উন্মুক্ত করতে হবে। করাচিতে বড় অপরাধ কমলেও ছোট ছোট অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পরিচয় সংকেট থাকা লোকজন। তাদের জন্য কাজের সুযোগ করে দিতে চায় সরকার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম সফরে করাচিতে এসে তিনি শরণার্থীদের জন্য এ সুখবর দিলেন।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তানে এখন ১৪ লাখ আফগান শরণার্থী বসবাস করছে। তাদের ৭৪ শতাংশই দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের আফগান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং আগে-পরে বিভিন্ন পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক লোক তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। যুদ্ধের সময় বহু বাঙালি পাকিস্তানে আটকা পড়ে। তারা শরণার্থী মর্যাদায় পাকিস্তানে বসবাস করছেন।

পাকিস্তানের মিয়ানমারের শরণার্থীও আছে। এখন করাচি মহানগরীর ১০৩টি মহল্লায় বাঙালি ও বর্মী শরণার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু নাগরিকত্ব বা পরিচয়পত্রের অভাবে তাদের বেশিরভাগই দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন এবং নানা ধরনের সামাজিক নিপীড়নের শিকার হন।

পাকিস্তান নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, এ ভূখণ্ডে ১৯৫১ সালের পর জন্মগ্রহণকারী যে কেউ পাকিস্তানের নাগরিকত্বের অধিকারী। কিন্তু পাকিস্তানে বর্তমানে যারা সরকারি শরণার্থী কার্ড ব্যবহার করছেন, তারা নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন না। যেসব উর্দুভাষী শরণার্থী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছেন, তাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি ইমরান খান।

 

 

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন