সারাদেশ

বর্ষার মন জয় করতে পারছে না বাদশা

বিনোদন ডেস্ক | দীর্ঘ প্রায় দু’মাসেও মনের মিল হলো না বাদশা ও বর্ষার। হলো না তাদের মাঝে ভাব-ভালোবাসা। শুধু চলছে চোখাচুখি।
চট্টগ্রাম থেকে বাদশার সঙ্গে ঘর বাঁধতে রংপুরে এসেছে এই বর্ষা রাণী। কিন্তু শান্ত বাদশার সঙ্গে জমছে না বদ মেজাজি বর্ষার। ভাব জমাতে প্রতিদিন বর্ষার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে বাদশা।  এটি হচ্ছে রংপুর চিড়িয়াখানার সিংহ-সিংহীর ঘটনা। তবে কর্তৃপক্ষের আশা, খুব শিগগিরই তাদের মধ্যে ভাব-ভালোবাসা জমে উঠবে।
মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে রংপুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, দু’ভাগে বিভক্ত রংপুর চিড়িয়াখানার লোহার খাঁচার একটি অংশ রাখা হয়েছে বর্ষাকে। অন্য অংশে আছে বাদশা। দূরে সরে যাওয়া ভাইয়ের বেদনায় কিছুদিন বাদশা নীরব হয়ে পড়লেও এখন নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে অনেকটাই। অথচ চট্টগ্রাম থেকে আসা বর্ষা রাণী এখনও নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি। বোনের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার বেদনায় এখনও সে কাতর। এ কারণে সে হয়ে উঠেছে বদ মেজাজি।
সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালের ৮ আগস্ট ঢাকা চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়া সিংহী লাইলীকে ১৯৯৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর নিয়ে আসা হয় রংপুর চিড়িয়াখানায়। সেখানে তার ভাব-ভালোবাসা হয় সিংহ মজনুর সাথে। এরপর ২০০৮ সালে মা লাইলির গর্ভে জন্ম হয় সিংহ বাদশা ও রাজার। শারীরিক অসুস্থার কারণে ২০১১ সালের ৭ জুন মারা যায় লাইলীর স্বামী সিংহ মজনু। শোকে কাতর লাইলীও মারা যায় ওই বছরের ১৭ নভেম্বর। মা ও বাবার মৃত্যুর পর একই সাথে বড় হতে থাকে সিংহ শাবক বাদশা ও রাজা। অপরদিকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বড় হতে থাকে বর্ষা ও ঝর্ণা রানী। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানানো হলে তারা ২ চিড়িয়াখানার ছেলে-মেয়ে সিংহ শাবকদের বিনিময় করার সিদ্ধান্ত নেয়।
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে মেয়ে সিংহী বর্ষাকে নিয়ে আসা হয় রংপুরে। এর একদিন পর রংপুর থেকে রাজা নামের সিংহ শাবকটিকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাতে।
সিংহ বাদশা ও সিংহী বর্ষা রাণীর দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত রংপুর চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়ক নজরুল ইসলাম জানান, বাদশা ও বর্ষার মাঝে ভাব জমাতে প্রতিদিন সকালে তাদের এক সঙ্গে করা হয়। ১ থেকে দেড় ঘণ্টা পর আবার তাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। এভাবেই হয়তো একদিন তাদের মধ্যে ভাব জমে উঠবে।
তিনি জানান, বর্ষা বদ মেজাজি আর বাদশা অনেকটাই শান্ত। বর্ষা ও বাদশার জন্য প্রতিদিনের বরাদ্দ ১৪ কেজি করে গরুর মাংস। চিড়িয়াখানাতেই প্রতিদিন গরু জবাই করে তাদের তাজা মাংস দেওয়া হচ্ছে।সূত্র-ইত্তেফাক।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন