সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে ভুল প্রশ্নপত্রে জেএসসি পরীক্ষা দিল ৫১ শিক্ষার্থী

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি || ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় জেএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রের নিয়মিত সিলেবাসের ৫১ জন পরীক্ষার্থী অনিয়মত সিলেবাসের ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সচিব ও  লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা ৪৮ জন পরীক্ষার্থীর এমন খাতা পেয়েছি। এ ঘটনার পর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন পরীক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবগণ।

বৃস্পতিবার উপজেলার লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। সারা দেশের মতো ওই কেন্দ্রেও  দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে নতুন সিলেবাসের আলোকে শিক্ষার্থীদের বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলার চারটি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছর ২১টি কক্ষে ১২শ ৫৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। এর মধ্যে ১১৬ নম্বও কক্ষের নিয়মিত সিলেবাসের পরীক্ষার্থী ৫১ জন। যার মধ্যে ৪৮ জন পুরাতন তথা ২০১৭ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে।

ভুলপ্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া দোগাছি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী রিতা রানী, সততা রানী ও পিংকি রানীসহ অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা জানায়, পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর ওই কক্ষে থাকা ২ জন কক্ষ পরিদর্শককে বিষয়টি জানাই। কিন্তু তারা ধমক দিয়ে আমাদের ওই প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেন। নতুন সিলেবাস পড়ে এসে পরীক্ষার হলে পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা কারোই ভালো হয়নি।

পরীক্ষা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ১১৬ নম্বর কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন চৌরংগী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিরউদ্দীন ও রত্মাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহেনা খানম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছু বলেননি।

এক অভিভাবক বলেন, আমি আমার স্বপ্ন ভঙ্গের দারপ্রান্তে। আমার মেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। কার ভুলের জন্য আমার মেয়ের এই শাস্তি। কে এর জবাব দিবে?

পরীক্ষা কেন্দ্রে তদারকীর দায়িত্বে থাকা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুমন আহম্মেদ বলেন, আমার কিংবা প্রধান শিক্ষকের পক্ষে প্রতিটি কক্ষের প্রশ্নপত্র এক এক করে চেক করা সম্ভব নয়। কক্ষ পরিদর্শনের সময়ও কোন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেনি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরীক্ষা কেন্দ্রের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান মাসুদ বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল দাবি করে বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক এবং দিনাজপুর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেছি। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে ৩ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

দেশরির্পোট/আজমল


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন