জাতীয়

হেফাজতের শোকরানা মাহফিলে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্নাতকোত্তরের সমমান দেওয়ায় রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিল করবে আল হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়া। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও আল হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, মাহফিলে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী সমকালকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্বীকৃতি দিয়ে কওমি মাদ্রাসার লাখো শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি পূরণ করেছেন। মাহফিল থেকে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হবে।

আয়োজকদের সূত্র জানিয়েছে, মাহফিল থেকে তিনটি দাবি জানানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এগুলো হলো কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা, আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও ‘ইসলামবিরোধী’ শক্তিকে প্রতিহত করা। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আশরাফ আলী।

রোববার সকাল ৯টায় মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দুপুর সাড়ে ১২টায় এ অনুষ্ঠান শেষ হবে।

এদিকে, এ অনুষ্ঠানের কারণে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মাহফিলের কারণেই এ সিদ্ধান্ত। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশের সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

দীর্ঘ চার দশক দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি দাবি করছেন কওমির শিক্ষার্থীরা। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এ দাবিতে তারা রাজপথে নামেন। তবে বিএনপি দাবি পূরণ করেনি। ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক দিন আগে ২০০৬ সালের অক্টোবরে স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু আইন না করায় তা কার্যকর হয়নি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কওমি শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিতে ২০১২ সালের ৫ এপ্রিল আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে কমিশন করে। পরের বছর ২০১৩ সালে হেফাজতের ১৩ দফা নিয়ে সরকারের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বছরের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় সম্পর্কের আরও অবনতি হয়।

আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর স্বীকৃতির বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। গত বছরের এপ্রিলে স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। দাওরায়ে হাদিসকে আরবি সাহিত্য ও ইসলাম শিক্ষায় মাস্টার্সের সমমান দিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে আইন পাস হয়। আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত আল হাইয়াতুল উলা লিল জামিয়াতুল কওমিয়ার অধীনে সনদ দেওয়া হবে।

আইন পাসে খুশি আলেমরা প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে উদ্যোগ নেন। তবে প্রধানমন্ত্রী এতে রাজি না হওয়ায় শোকরানা মাহফিল আয়োজন করা হয়। ধর্মভিত্তিক দল এবং হেফাজতের নেতারা সমকালকে জানিয়েছেন, আজকের মাহফিলে বিপুল জনসমাগম ঘটিয়ে তাদের শক্তির কথা জানান দেবেন তারা।

নেতারা জানিয়েছেন, রোববার সব মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাহফিলে যোগ দেবে। সারাদেশে ১৭ হাজার কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, কওমির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ৬০ লাখ। তাদের একটি অংশ আসবে মাহফিলে। আসবেন সব শিক্ষক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও মাহফিলে আসবেন।

দেশে কওমি মাদ্রাসার ছয়টি আঞ্চলিক বোর্ড রয়েছে। এর মধ্যে বেফাকুল মাদরাসিল আরাবিয়া (বেফাক) বৃহত্তম। তাদের অধীনের অধিকাংশ মাদ্রাসা। বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক জানিয়েছেন, স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশ হবে মাহফিলে। সুশৃঙ্খল মাহফিল আয়োজনে ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ১৭ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে।

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরেজমিনে দেখা যায়, মাহফিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উদ্যানের দক্ষিণ-পূর্বপাশে বিশালাকারের মঞ্চ করা হয়েছে। দুপুরে মাহফিলস্থল পরিদর্শন করেন জাতীয় দ্বীনি বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতি দিয়ে নজিরবিহীন ভালো কাজ করেছেন। তাকে শুকরিয়া জানাতেই মাহফিল। রাজনৈতিক সমাবেশ নয়।

 

 

দেশরির্পোট/আজমল


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন