প্রধান সংবাদ

খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে প্রেরন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসানো অস্থায়ী আদালতে নেওয়া হয়।

সেখানে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয় দীর্ঘ দিন পর।

হুইল চেয়ারে করে হাজির খালেদা জিয়াকে এজলাসে হাজির করার পর শুনানি শেষে আদালত ১৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির কথা রয়েছে।

আদালতে শুনানির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের একটি কালো এসইউভিতে বিএনপি চেয়ারপারসন নিয়ে আদালতের রওনা হয় পুলিলশ। সকালে হাসপাতাল থেকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সকালে একটি গাড়িতে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার এখন থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে হবে। বুধবার এজলাস স্থানান্তর সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইনমন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে এ মামলার বিচার কার্যক্রম এখন থেকে ঢাকা মহানগর ১২৫ নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্র দুর্নীতিমামলার শেষ দিকে বিচারও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই এজলাসে। বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থপিত এজলাসে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির মামলাটি শুনানি করেন।

তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরের বছরের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করে দুদকের তৎকালীন সহকারি পরিচালক সাহিদুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলার তিন আসামি নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেপের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক পলাতক রয়েছেন। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর একই আদালতে খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ৪ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে ৬ অক্টোবর থেকে বিএসএমএমইউয়ের কেবিন ব্লকের ৬১২ নম্বর কক্ষে আছেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড পান বিএনপি চেয়ারপারসন। ওইদিনই নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাকে। সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

 

 

আরজে


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন