খেলা

স্কোরকার্ড স্পষ্টই বলছে, জয়ের পাল্লা ইংল্যান্ডের দিকেই ভারী

কে জিতবে ক্যান্ডি টেস্টে? চতুর্থ দিন শেষে টেস্ট যে অবস্থায় দাড়িয়ে তাতে এই প্রশ্নের উত্তরে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কিছুই। তবে স্কোরকার্ড স্পষ্টই বলছে, জয়ের পাল্লা সফরকারী ইংল্যান্ডের দিকেই ভারী। ইংল্যান্ডের ছুড়ে দেওয়া ১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২২৬ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। জয়ের জন্য শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার চাই আরও ৭৫ রান। ইংল্যান্ডের দরকার ৩টি মাত্র উইকেট।

উইকেটের যা অবস্থা, তাতে শেষ ৩ উইকেটে লঙ্কানদের জন্য আরও ৭৫ রান করে জয় ছিনিয়ে আনাটা এক রকম অসম্ভবই। তবে পুরো একটা দিন হাতে আছে। লেজের দিকের ব্যাটসম্যানেরা অপ্রত্যাশিত কিছু করে বসলে আলাদা কথা। তবে আপাত দৃষ্টিতে ইংল্যান্ডের জয়টাকেই মনে হচ্ছে ক্যান্ডি টেস্টের নিয়তি। সেটা হলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে যাবে ইংলিশরা।

তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩২৪ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। তাতে প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের ঋণ শুধিয়ে ইংলিশদের লিড ছিল ২৭৮ রানের। এই লিড হাতে নিয়ে চতুর্থ দিনে শেষ উইকেটে আরও ২২ রান যোগ করে ইংলিশরা। তাতে তারা অলআউট হয় ৩৪৬ রানে। পায় কাটায় কাটায় ৩০০ রানের লিড। মানে শ্রীলঙ্কার জন্য চতুর্থ ইনিংসে জয় লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ৩০১ রানের।

এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। লঙ্কানদের কাপিয়ে দেন জ্যাক লিচ। তার তোপের মুখে মাত্র ২৬ রানের মধ্যেই হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। ৩টি উইকেটই তুলে নেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। করুণারত্নে ও আঞ্জেলো ম্যাথুস মিলে চেষ্টা করেন এই বিপদ কাটিয়ে উঠার। সেই চেষ্টায় অনেকটা সফলও হন তারা। চতুর্থ উইকেটে দুজনে গড়েন ৭৭ রানের জুটি। ৫৭ রান করা করুণারত্নেকে ফিরিয়ে দিয়ে এই জুটি ভাঙ্গেন ইংল্যান্ডের আরেক স্পিনার আদিল রশিদ। এরপর ম্যাথুস ও রোসেন সিলভা মিলে পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৭৩ রানের জুটি। ৩৭ রান করা সিলভাকে বিদায় করে এই জুটি খসান অন্য আরেক স্পিনার মঈন আলি। তারপরও বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল শ্রীলঙ্কা। চা বিরতির সময় শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৮২ রান। হাতে ছিল ৫টি উইকেট। তার চেয়েও বড় কথা, আশার প্রতীক হয়ে তখনো উইকেটে ছিলেন ম্যাথুস।

কিন্তু চা বিরতির পর খেলা মাঠে গড়াতেই শ্রীলঙ্কাকে ব্যাক-ফুটে ঠেলে দেন মঈন আলি। ফিরিয়ে দেন জয় পথের বড় কাটা হয়ে উঠা ম্যাথুসকে। ম্যাথুস আউট হন ৮৮ রান করে। তার একটু পরই দিলরুয়ান পেরেরাকে ফেরান লিচ। মানে চা বিরতির পর ২০ বলের মধ্যেই ২ উইকেট হারিয়ে ম্রীলঙ্কা পরিণত হয় ৭ উইকেটে ২২৬ রানের দলে। দিনের খেলা পুরো হলে হয়তো চতুর্থ দিনেই নিভে যেত ক্যান্ডি টেস্টের আয়ু।

কিন্তু বৃষ্টি এসে ভাসিয়ে দিয়েছে দিনের বাকি সময়টুকু। তাতে ক্যান্ডি টেস্ট গড়িয়েছে পঞ্চম দিনে। সঙ্গে বাঁচিয়ে রেখেছে রোমাঞ্চও। সম্ভাবনা কম হলেও শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা একেবারেই যে শেষ হয়ে যায়নি। আশা এখনো বেঁচে আছে।িআমাটা বাঁচিয়ে রেখেছেন ডিকভেলা। দিন শেষে যিনি অপরাজিত আছেন ২৭ রানে। তবে তিনি একা পারবেন না। জিততে হলে শ্রীলঙ্কার লেজের দিকের অন্য ব্যাটসম্যানদেরও দক্ষ ব্যাটসম্যান হয়ে উঠতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইংলিশ স্পিনাররা লঙ্কার লেজের দিকের ব্যাটসম্যানদের দক্ষ ব্যাটসম্যান হতে দেবেন কি?

 

 

এসবি

 

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন