রাজনীতি

কোন জোটে যাব, এই সিদ্ধান্ত আমার উপরঃ এরশাদ

টানা পাঁচ বছর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের শরিক জাতীয় পার্টি। একাধিক নেতা মন্ত্রিত্ব করছেন। সংসদের প্রধান বিরোধী দলও তারা। দলটির প্রধান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও শরিকদের নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘ভিন্ন ধরনের’ সরকার গঠিত হয়, যেটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই।

কিছুদিন পরে হলেও বিষয়টি টের পান এরশাদ। এরপর ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূল নেতাদের নির্দেশনা দেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে, সেভাবেই তৈরি হতে। টানা দু’বছর সেভাবেই নিজেদের তৈরি করেছেন তৃণমূলের নেতারা।

এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছেন এরশাদ। তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০টি আসনে ছাড় দেবে ক্ষমতাসীনরা। এতে লাঙল প্রতীক নিয়ে বেশিরভাগ নেতাই লড়াই করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

এমন পরিস্থিতিকে দলের জন্য ‘লজ্জা’ ও ‘হতাশার’ বলে মন্তব্য করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা বলছেন, পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এরশাদের সম্ভবত এটাই শেষ নির্বাচন। আমরা তাকে সম্মান ও সংসদে ভালো অবস্থানে আনার জন্যই তৃণমূলকে প্রস্তুত করেছি। কিন্তু, এখন যে অবস্থা, তাতে গ্রামে গিয়ে আমরা মুখ দেখাতে পারব না।

শরীয়তপুর-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, দিনাজপুর-১, দিনাজপুর-২, দিনাজপুর-৫, বাগেরহাট-১, ঢাকা-১, পিরোজপুর-৩ আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা হয় পরিবর্তন ডটকমের। তারা বলছেন, এবার পরিস্থিতি যাই হোক, জাতীয় পার্টির এককভাবে নির্বাচন করা উচিত।

যুক্তি হিসেবে তারা বলছেন, দলের নির্দেশনা মোতাবেক সব আসনেই নেতারা তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করেছেন। যে কোনো দলের প্রার্থীর সঙ্গে টক্কর দিতে পারবেন, এমন একাধিক যোগ প্রার্থী রয়েছেন। তাদের ঘিরে নেতাকর্মীরাও ভীষণ চাঙ্গা। কিন্তু, দলের প্রার্থী মনোনয়ন না পেলে এসব নেতাকর্মীদের আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তারা হারিয়ে যাবেন।

পিরোজপুর-৩ আসনে লাঙল প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশী রুস্তুম আলী ফরাজী। ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নৌকাকে হারিয়ে এমপি হন তিনি।

রুস্তুম আলী ফরাজী বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশে তৃণমূলের আবেগকে এবার বেশি জাগ্রত করা হয়েছে। কারণ, পার্টির চেয়ারম্যানের শেষ নির্বাচনে তাকে সম্মানের স্থানে রাখতে হবে। এখন ৩০০ আসনে প্রার্থী না দিলে ভিন্ন পরিস্থিতি হবে। স্থানীয় রাজনীতিতে নানা কটূ কথা শুনতে হবে। তবে জোটের রাজনীতিতে এটা মেনে নিতে হবে।’

শরীয়তপুর-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আবদুল হান্নান সরাসরি বলেন, ‘৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে, সেখান থেকে সরে আসা লজ্জার।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৯ বছর দেশ পরিচালনা করেছে। দীর্ঘদিন লড়াই করে এখন সারা দেশে ভালো অবস্থানে এসেছে। এই অবস্থান ধরে রাখার জন্য হলেও ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া দরকার। এবার এটি না করতে পারলে তৃণমূলে জাতীয় পার্টি বিলীন হয়ে যাবে। নেতাকর্মীরা অন্য দলের আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হবেন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. মামুনের কণ্ঠেও একই সুর, ‘জাপার অবস্থান কতটা শক্ত, তা বোঝানোর এবারই সুযোগ। ৩০০ আসনে প্রার্থী না দিলে চাঙ্গা তৃণমূল হারিয়ে যাবে।’

প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী এই নেতা বলেন, ‘আমার আসনে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে, চার চারবার নির্বাচনে লাঙল বিজয়ী হয়েছে। এবারও বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। কিন্তু, এখনও আমরা নিশ্চিত নই, এখানে লাঙল না নৌকার প্রার্থী হচ্ছেন! এমন অনেক আসন রয়েছে, যেখানে লাঙল জয়লাভ করবে। কিন্তু, পার্টিতো সুযোগই দিচ্ছে না।’

দিনাজপুর-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সোলায়মান সামী। তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন।

সামী বলেন, ‘দলের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিত। সারা বছর এক, নির্বাচনের আগে অন্য কথা, পার্টির জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।’

দিনাজপুর-১ আসনে মো. মাহাবুব আলম ও দিনাজপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট মো. জুলফিকার হোসেন একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তারাও দলের এই অবস্থানে হতাশা ব্যক্ত করেন।

তবে ঢাকা-১ আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া সালমা ইসলাম বলেন, ‘জোটের রাজনীতিতে এমন অনেক কিছুই হয়। তা নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি থাকার পরও অল্প আসন পাওয়া কষ্টকর।’

গত ২০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেখানে তারা থেমে থেমে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার স্লোগান দেন।

তবে বক্তব্যের সময় এরশাদ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘কোন জোটে যাব, এই সিদ্ধান্ত আমার উপর ছেড়ে দাও। তোমরা জানতো, আমার নামে এখনও মামলা রযেছে।’

 

 

সিএসবি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন