প্রধান সংবাদ

জাতীয় পার্টিকে যত আসনে ছাড় দিচ্ছে আ.লীগ!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচেনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ৭০টি আসন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তালিকা দিয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি । তবে ৫০টি আসন পেলে তারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১৪ দল ও মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টনের বিষয়ে ইতোমধ্যে মৌখিক সমঝোতা হয়েছে। আগামী রবিবারের মধ্যে মহাজোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথমদিকে সিদ্ধান্ত ছিল জাপাকে ২৫ থেকে ৩০টি আসনে ছাড় দেওয়ার। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে এই সংখ্যা ধীরলয়ে বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ খবরাখবর অনুযায়ী, আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার দর-কষাকষি চলমান। তবে জাতীয় পার্টিকে ৪৫টির বেশি আসনে আওয়ামী লীগ ছাড় দিবে না বলে দলের একজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চাপ এড়াতে জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ নিজের সবগুলো মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। বারিধারায় ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’-এ নিজ বাসায় নিরিবিলি অবস্থান করছেন তিনি। দলের ৩-৪জন নেতা ছাড়া আর কারও তার বাসায় বর্তমানে প্রবেশাধিকার নেই।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে মঙ্গলবার এরশাদ বলেছেন, ‘দলের প্রার্থী তালিকা আমিই চূড়ান্ত করব। প্রেসিডিয়াম বৈঠকে আমাকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ভোটের প্রয়োজনে কোনও জোটে যেতে হলে সেই সিদ্ধান্তও আমিই নেব। প্রথমে আমি দলের তিনশ আসনে প্রার্থী ঠিক করব, তারপর জোটগত প্রার্থী ঠিক করা হবে। আমার সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে নিতে হবে। তোমরা আমার ওপর আস্থা রাখো।’ এর আগে এরশাদ বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাছে আমরা একশ আসন চাইবো, ৭০টার মতো তো পাবোই।’ এরশাদের সহোদর ও জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, একশ আসনের তালিকা নিয়ে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর-কষাকষি শুরু করবো। আশা করি শেষ পর্যন্ত সম্মানজনক আসনে ছাড় পাব।’

জাপা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান দশম সংসদে দলের যারা সংসদ সদস্য রয়েছেন-দু’চারজন ছাড়া বাকি সবাইকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। এব্যাপারে আওয়ামী লীগেরও সবুজ সংকেত রয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে আওয়ামী লীগের কাছে ছয়টি আসন দাবি করছে জাপা। এরমধ্যে দলের চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের জন্য ঢাকা-১৭ (গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট), জিএম কাদেরের জন্য ঢাকা-১৮ (উত্তরা-খিলক্ষেত), কাজী ফিরোজ রশীদের জন্য ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর), সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার জন্য ঢাকা-৪ (শ্যামপুর), মীর আবদুস সবুর আসুদের জন্য ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ি-ডেমরা) এবং শফিকুল ইসলাম সেন্টুর জন্য ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুরের আদাবর) আসনটি পেতে চায় জাপা।

এরমধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে নবম সংসদের সদস্য ছিলেন এরশাদ। এই আসনে এবার এরশাদকে আওয়ামী লীগের ছাড় দেওয়ার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়নি। লালমনিরহাট-৩ আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৮ আসনেও লড়তে চান জিএম কাদের। এনিয়ে মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথাও বলেছেন তিনি। এসময় ঢাকা-১৮ আসনের বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা-২ ও ঢাকা-১ আসনটি নিয়ে বড় ঝামেলা দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা-২ আসনে এবার
১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাসদের ধীমন বড়ুয়াকে মনোনয়ন দিতে চায় আওয়ামী লীগ, আর ঢাকা-১ আসনে (দোহার-নবাবগঞ্জ) শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের।

 

সিএসবি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন