খেলা

ফাইনালে মারামারিতে বড় শাস্তি পেলেন ৪ ফুটবলার

ফেডারেশন কাপের ফাইনালে মারামারিতে জড়িয়ে বড় ধরনের শাস্তি পেলেন আবাহনী লিমিটেড ও বসুন্ধরা কিংসের চার ফুটবলার মামুন মিয়া, নাবীব নেওয়াজ জীবন, সুশান্ত ত্রিপুরা এবং তৌহিদুল আলম সবুজ। জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের এক কর্মকর্তা এবং দুই বলবয়ও। কোয়ার্টার ফাইনালে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিকে লাঞ্ছিত করার শাস্তি পেল আরামবাগ।

বুধবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ডিসিপ্লিনারি কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, বসুন্ধরা-আবাহনীর ফাইনাল ম্যাচে মারামারির ঘটনায় রেফারি মিজানুর রহমান চার খেলোয়াড়কে লালকার্ড দেখান। ডিসিপ্লিনারি কমিটি লালকার্ড দেখা চারজনকেই শাস্তি দিয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি পেয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা। তিনি ৮ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৬ ম্যাচ করে নিষিদ্ধ হয়েছেন বসুন্ধরার অধিনায়ক তৌহিদুল আলম সবুজ ও আবাহনীর ডিফেন্ডার মামুন মিয়া। দু’জনের অর্থদণ্ড ৫০ হাজার টাকা করে। আবাহনীর ডিফেন্ডার মামুন মিয়ার উড়ন্ত কিক সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেলেও তার শাস্তি সুশান্তের চেয়ে খানিকটা কম হয়েছে। আবাহনীর ফরোয়ার্ড নবীব নেওয়াজ জীবন দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন।

এদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে সহকারী রেফারি হারুনকে লাঞ্ছিত করার শাস্তি পেয়েছে আরামবাগের দুই বলবয়। ফুটবলে তাদের আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরামবাগের কর্মকর্তা ম্যানেজার রাশেদুল হক সুমনকে এক বছরের জন্য ফুটবলের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করেছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। ক্লাবকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানারও সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন দুই ম্যাচের শাস্তি সম্পর্কে বলেন, ‘দু’ম্যাচের ভিডিও, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, ডিসিপ্লিনারী কোড সব বিবেচনা করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’

গত ২৩ নভেম্বর ফেডারেশনের কাপের ফাইনালে হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হন আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে বল নিয়ে এগিয়ে যান সানডে। কিন্তু তাকে কনুই দিয়ে বুকে আঘাত করেন বসুন্ধরার ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরী। মারাত্মক আহত হয়ে মাঠের বাইরে যেতে হয় সানডেকে। তার পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় নাবীব নেওয়াজ জীবনকে। সানডেকে তখন অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দু’দলের ফুটবলাররা।

আবাহনীর নাবীব নেওয়াজ জীবন খাপ্পড় দেন বসুন্ধরার সুশান্ত ত্রিপুরাকে। পরে সেই সুশান্ত পেটে লাথি মেরে ফেলে দেন জীবনকে। এই অবস্থা দেখে ঘুরে এসে আবাহনীর মামুন মিয়া ফ্লাইং কিক দিয়ে সুশান্তকে ফেলে দেন। শুরু হয় দু’দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি। এক সময় দুই দলের কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। রেফারি মিজানুর রহমান বসুন্ধরার কিংসের সুশান্ত ত্রিপুরা ও তৌহিদুল আলম সবুজ এবং আবাহনীর নাবীব নেওয়াজ জীবন ও মামুন মিয়াকে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। আগামী এক মাসের মধ্যে অর্থ পরিশোধের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।

 

 

সিএসবি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন