রাজনীতি

কুমিল্লা-২ আ.লীগের নতুন মুখ মেরী!

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনটি দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সাবেক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত এমকে আনোয়ার এ আসন থেকে পাঁচবার সংদস সদস্য নির্বাচিত হন। এ আসনেই আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করতে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন সেলিমা আহমেদ মেরী।

কুমিল্লার রজনীতিতে নতুন মুখ এ নারীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি জেলাজুড়ে আলোচনায় আসেন। দুই বছর ধরে তিনি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার চালিয়ে গেলেও জেলাজুড়ে তার তেমন পরিচিতি ছিল না। মনোনয়ন নিশ্চিতের পর দুই দিন ধরে তাকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও নির্বাচনী সমীকরণ।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী মাতলুব আহমেদের স্ত্রী, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সেলিমা আহমেদ মেরী। হোমনার আসাদপুর ইউনিয়নের পাতালিয়াকান্দি গ্রামের মেয়ে। তবে থাকেন ঢাকায়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত মেরী দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান নিটল নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশ ওমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতার লক্ষ্যে এ আসন থেকে তিনিসহ আওয়ামী লীগের নয় জন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তারা হলেন হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ, তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার, তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ নেতা সারোয়ার হোসেন বাবু, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, ডালিম সরকার, এনামুল হক ইমন ও মজিবর রহমান। অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপি নেতা এমকে আনোয়ারের বিরুদ্ধে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচন করে নিকটতম প্রদিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আর বাকি সবাই নতুন মুখ।

বিএনপির দুর্গ হিসেবেই পরিচিত এ আসনটিতে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য প্রয়াত এমকে আনোয়ার।

কিন্তু তার মৃত্যুর পর এখানে বিএনপির কার্যক্রম অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝেও চোখে পড়েনি তেমন দলীয় কর্মকা-। আর এ সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছে আওয়ামী লীগ। তবে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অথবা এমকে আনোয়ারের ছেলে মাহমুদ আনোয়ার কায়জার। ড. মোশাররফ হোসেন তার ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে এখানে ভালো অবস্থানে থাকতে পারবেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। আর কায়জার নতুন প্রার্থী হলেও বাবা এমকে আনোয়ারের জনপ্রিয়তা ও ইমেজকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি দুর্গে ভালো করতে পারবেন। আওয়ামী লীগের অনেকের ধারণা, এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ হলে অনেকটা ভালো হতো। ২০১৪ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।

 

সিএসবি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন