খেলা

মেসি দীর্ঘ ৪ বছর পর খেললেন সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে

গতকাল বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসভি আইন্দোহোফেনের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল বার্সেলোনার। বার্সার ২-১ গোলে জেতা ম্যাচটাতে লিওনেল মেসি দীর্ঘ ৪ বছর পর খেললেন সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে। মানে পিএসভির মাঠের ম্যাচটাতে নিখাঁদ স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেন মেসি। ক্লাব বার্সেলোনায় আর্জেন্টাইন তারকা এই পজিশনে সর্বশেষ ম্যাচটা খেলেছিলেন ২০১৪ সালের নভেম্বরে। কাকতালীয় হলো, সেই ম্যাচটাও ছিল এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরই। সেই ম্যাচটিতে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষও একটি ডাচ ক্লাবই, আয়াক্স!

৪ বছর পর সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবং সেই ডাচ ক্লাবের বিপক্ষেই আবার নিজের পুরোনো পজিশনে খেললেন মেসি। ঘটনাটা কাকতালীয়ভাবে ঘটে গেলেও নিজের পুরোনো পজিশনে খেলাটা দারুণভাবে উপভোগ করেছেন মেসি। বার্সার ২-১ গোলের জয়টা এক কথায় মেসিময়। তিনি নিজে একটা গোল করেছেন। অন্যটি সতীর্থ জেরার্ড পিকেকে দিয়ে করিয়েছেন।

যদিও মেসির দাবি, তিনি ফ্রি-কিকটা পিকেকে লক্ষ্য করে নেননি। আসলে ফ্রি-তার কিকটা ছিল খুবই বাজে। ভাগ্যক্রমে পিকে সেখানে থাকায় গোলটা হয়েছে। এই গোলটাকে তিনি ভাগ্য প্রসূত বলেই আখ্যায়িত করেছেন। তবে ভাগ্য প্রসূতই হোক বা পূর্ব-পলিকল্পনার ফসল হোক, পিকের গোলটির অ্যাসিস্ট হিসেবে মেসির নামটিই লেখা হয়েছে। ডাচ ক্লাব পিএসভির মাঠ ফিলিপে স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে দুই দলের মধ্যে পার্থক্যও গড়ে দিয়েছেন তিনিই।

নিজে গোল করা, সতীর্থদের দিয়ে করানো-এই কাজটা তিনি নিয়মিতই দারুণ দক্ষতার সঙ্গে করেন। গতকালের ম্যাচটিতে তাই আলোচনার বিষয় ছিল হঠাৎ করে মেসির সেস্ট্রাল ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় খেলার বিষয়টিই। বার্সেলোনার মূল দলে মেসির অভিষেক হয় ডাচ কোচ ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের হাত ধরে। রাইকার্ড তরুণ মেসিকে শুরুতে উইংয়েই খেলাতেন। তবে ধীরে ধীরে মেসি হয়ে উঠেন বার্সেলোনার আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র। রাইকার্ডও তার মেয়াদের শেষের দিকে মেসিকে উইং থেকে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলান।

তবে মেসি সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজের জায়গাটা পাকা করেন পেপ গার্দিওলার সময়ে। পরে টিটো ভিলানোভা এবং আর্জেন্টাইন কোচ তাতা মার্টিনোও মেসিকে মূলত সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবেই খেলান বেশি। তিনি মাঝে খেলতেন। তার দুই পাশে দুই উইংয়ে খেলতেন ডেভিড ভিয়া, পেদ্রো, অ্যালেক্সিস সানচেজরা। কিন্তু ২০১৪ সালে বার্সেলোনার কোচের দায়িত্ব নিয়েই মেসির ভূমিকাটা বদলে ফেলেন লুইস এনরিকে। সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড মেসিকে তিনি খেলানো শুরু করেন ফ্রি বা স্বাধীন ফলোয়ার্ড হিসেবে।

এনরিকে হুট করে মেসির ভূমিকাটা পাল্টা ফেলার মূল কারণ লুইস সুয়ারেজ। ২০১৪ বিশ্বকাপের পর উরুগুইয়ান এই ফরোয়ার্ডকে লিভারপুল থেকে কিনে আনে বার্সেলোনা। সুয়ারেজ আপাদমস্তক খাঁটি স্ট্রাইকার। তাই কোচ এনরিকে সুয়ারেজকে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডের ভূমিকা দিয়ে মেসিকে খেলান একটু নিচে স্বাধীন ফরোয়ার্ড হিসেবে। নিজের অমিয় প্রতিভা আর দক্ষতায় এই পজিশনেও শতভাগ সফল মেসি।

২০১৪ সালের নভেম্বরের পর প্রতিটা ম্যাচেই এই পজিশনে খেলেছেন মেসি। কিন্তু গতকাল হুট করেই তাকে তার পুরোনো পজিশন সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডে খেলালেন কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। এবারও হুট এই পজিশন বদলানোর কারণ সেই সুয়ারেজ। উরুগুইয়ান তারকা চোটের কারণে দুই সপ্তাহের জন্য ছিটকে পড়েছেন মাঠের বাইরে।

তার অনুপস্থিতিতেই ভালভার্দে মেসিকে ফেরান পুরোনো ভূমিকায়। চোট, অসুস্থতার কারণে এর আগেও অনেক ম্যাচ মিস করেছেন সুয়ারেজ। কিন্তু তারপরও ফ্রি খেলোয়াড় হিসেবেই খেলেছেন মেসি। কিন্তু কাল কি মনে করে যেন ভালভার্দে তাকে পুরোনো জায়গাটা দিলেন। ভালভার্দে মেসির দুপাশে খেলিয়েছেন ফিলিপে কুতিনহো ও উসমানে ডেম্বেলেকে।

কারণ যাই হোক, ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। গোল করে দলকে জিতিয়েছেন। নিজেও ব্যক্তিগতভাবে পেয়েছেন দুদুটি রেকর্ডের স্বাদ। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর একটি রেকর্ড ভেঙে নতুন করে গড়েছেন। অন্য একটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন।

এতোদিন একক ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি ছিল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দখলে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০৫টি গোল করেছেন পর্তুগিজ তারকা। গতকালের গোলটি নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মেসির গোল হলো ১০৬টি। আর এই সবক’টি গোলই তিনি করেছেন এক বার্সেলোনার হয়ে।

এছাড়াও তিনি ভাগ বসিয়েছেন রোনালদোরই গড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ডে। মেসিকে টপকে মঙ্গলবার রাতেই এই রেকর্ডটা গড়েন রোনালদো। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জুভেন্টাসের ১-০ গোলের জয়ের মধ্যদিয়ে পর্তুগিজ তারকা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে স্পর্শ করেন ১০০তম জয়ের মাইলফলক। পিএসভির বিপক্ষে জয়ের মধ্যদিয়ে রোনালদোর এই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মেসি। মানে ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনিও পেলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০০তম জয়ের স্বাদ।

গোল করা, দলকে জেতানো, রেকর্ড গড়া-এতো সব অর্জনের ম্যাচটির মাধ্যমে মেসি এই বার্তাটাও দিয়েছেন, কোচ চাইলে এখনো তাকে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলাতে পারেন।

 

 

সিএসবি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন