খেলা

চা বিরতিতে ৪ উইকেটে ১৭৫ বাংলাদেশ!

ভালোই একটু জুটি গড়ে উঠেছিল সাদমান ইসলাম আর মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাটে। যে জুটিতে উঠে গিয়েছিল ৬৪ রান। কিন্তু হঠাৎ করেই এই সময়ে দেবেন্দ্র বিশুর আবির্ভাব। পরপর তিনি তুলে নিলেন দুই উইকেট। ফিরিয়ে দিলেন মোহাম্মদ মিঠুন এবং সাদমান ইসলামকে। ২ উইকেটে ১৫১ রান থেকে ৪ উইকেটে বাংলাদেশ হয়ে গেলো ১৬১ রান।

দ্বিতীয় সেশন শেষ হওয়ার আগে অবশ্য আর উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। চার বিরতিতে যাওয়ার আগে সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহীমের ব্যাটে বাংলাদেশের রান উঠেছে ১৭৫। উইকেট সেই ৪টি। ওভার খেলা হয়েছে মোট ৬৩টি। অর্থ্যা, দিনের এখনও ২৭ ওভার খেলা বাকি। যেগুলো খেলা হবে তৃতীয় সেশনে।

এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশের রান ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান। ওভার ৬৩টি। ১৩ রান নিয়ে সাকিব এবং মুশফিক রয়েছেন ৪ রান নিয়ে।

ওপেনিংয়ে সমস্যা কাটাতে কম পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টকে। বেশ কয়েকটি পরিবর্তনের পর অবশেষে কি তাহলে একজন খাঁটি, সলিড ওপেনারকে পেয়ে গেলো বাংলাদেশ? জবাবটা দিতে পারবে সময়। আগামী দিনে কি হয় সেটা না হয় সময়ের হাতেই তোলা থাকলো। তবে আপাত দৃষ্টিতে অভিষেকে যে ব্যাটিং করেছেন সাদমান ইসলাম, তাতে তাকে তামিম ইকবালের যোগ্য সঙ্গী ভাবলেও হয়তো ভুল হবে না।

একে তো তামিম ইকবাল নেই। অন্য দিকে ওপেনিংয়ে ইমরুল কায়েসের ধারাবাহিকতাহীনতা, সঙ্গে তার ইনজুরি। ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলামের অভিষেক করানো ছাড়া উপায় নেই। সে সুযোগেই অভিষেক হয়ে গেলো ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান সংগ্রাহক সাদমান ইসলামের।

এবং ওপেনিংয়েই ঝলক দেখালেন তিনি। করলেন দারুণ এক হাফ সেঞ্চুরি। তবে, এই হাফ সেঞ্চুরিটাকে তিন অংকের ঘরে নিতে পারলেন না। ধরা খেয়ে গেলেন ক্যারিবীয় স্পিনার বেদেন্দ্র বিশুর হাতে। ৭৬ রান করে আউট হয়েছেন অভিষিক্ত ওপেনার সাদমান ইসলাম।

১৪৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই প্রথম হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান সাদমান। ৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হন তিনি। শুরুতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ভালো একটা জুটি গড়ার চেষ্টা ছিল সাদমানের। কিন্তু সৌম্য সেই জুটি গড়তে পারলে তো!

প্রথম ঘন্টা ভালোভাবে কাটাতে পারলেও ইনিংসের ১৬তম ওভারে ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যায় সৌম্যর। রস্টোন চেজের হালকা ঝুলিয়ে দেয়া বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি। উদ্বোধনী জুটি থামে ৪২ রানে।

তিনে নেমে মুমিনুল খেলছিলেন চলতি বছর নিজের ফর্মের ছাপ রেখেই। টার্নিং উইকেটের কথা ভাবা হলেও, ক্যারিবীয় বোলাররা তেমন কোনো ভয়ই তৈরি করতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মনে নিয়মিত সিঙ্গেলস-ডাবলসের পাশে একটি-দুইটি বাউন্ডারি মেরে দলের রানের চাকা সচল রাখেন সাদমান ও মুমিনুল।

দু’জনের জুটিতে ততক্ষণে যোগ হয়ে গেছে ৪৫ রান। লাঞ্চ ব্রেকের বাকি ছিলো এক ওভার। সে ওভারে বোলিংয়ে আসেন কেমার রোচ। ওভারের পঞ্চম বলে অফস্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে লেগসাইডে খেলতে গিয়ে অপ্রস্তুত এক পজিশনে পড়ে যান মুমিনুল। যে কারণে তার হাফ পুল ও হাফ ড্রাইভ শটটি জমা পড়ে মিডঅন ফিল্ডারের হাতে। আউট হওয়ার আগে তিনি দুই চারের মারে করেন ৪৬ বলে ২৯ রান।

দ্বিতীয় সেশনে এসে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন সাদমান। ৮৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৬৪ রানের জুটি। এবার দেবেন্দ্র বিশুর ঘূর্ণি ফাঁদের শিকার হন মিঠুন। সরাসরি বোল্ড হয়ে গেলেন তিনি দলীয় ১৫১ এবং ব্যাক্তিগত ২৯ রানের মাথায়। ৬১ বল খেলে ২৯ রান করেন তিনি।

এরপর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে সাদমানের জুটিটির বয়স হয় মাত্র ১০ রানের। ইনিংসের ৫৯তম ওভারের পঞ্চম বলে বিশুর ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ব্যাট প্যাড করতে পারেননি, বলটি লেগে যায় প্যাডে। আবেদন উঠতেই আঙ্গুল তুলে দেন আম্পায়ার। ফলে ৭৬ রানেই শেষ হয়ে গেলো সাদমানের অভিষেকের উজ্জ্বল ইনিংসটি।

 

সিএসবি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন