খেলা

ইমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

শেষ চারে খেলতে হলে জিততে হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে, তাকিয়ে থাকতে হবে আরব আমিরাত বনাম হংকংয়ের ম্যাচ শেষের দিকেও। বৃষ্টির কারণে দিনের অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সমীকরণ খানিকটা সহজ হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য। তখন বাকি ছিলো কেবল নিজেদের জয়।

এ কাজটিই দারুণভাবে করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। পাকিস্তানের মাটিতেই তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে গ্রুপ রানারআপ হয়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে নুরুল হাসান সোহানের দল।

প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হংকংকে ২৮ রানে হারায় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও বল হাতে দুই উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক ছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। পাকিস্তানের বিপক্ষেও জয়ের নায়ক সৈকতই।

প্রথমে ব্যাট হাতে ৮৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহকে ৩০০ পার করান সৈকত। পরে বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানীদের ২২৫ রানে অলআউট করতে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন ২২ বছর বয়সী এ ব্যাটিং অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের করা ৩০৯ রানের জবাবে শুরু থেকেই পেছাতে থাকে পাকিস্তান। নাঈম হাসানের স্পিন ঘূর্ণিতে মাত্র ২৩ রানেই দুই উইকেট হারায় তারা। তবে খুলশিদ সাহ ৬১, জিসান মালিক ৪৭ ও অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪৬ রান করলে দুইশ ছাড়ায় পাকিস্তানের ইনিংস।

বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান। এছাড়া শফিউল ইসলাম ও মোসাদ্দেক সৈকত ২টি করে এবং শরীফুল ইসলাম, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও তানভীর ইসলাম নেন ১টি করে উইকেট।

করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার মিজানুর রহমান ও জাকির হাসান উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪৮ রান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৯৮ রানের জুটি গড়েন জাকির। ৬৯ বলে ৮ চারের মারে ঠিক ৬৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন সিলেটের এ তরুণ।

জাকিরের বিদায়ের খানিক পর দলীয় ১৫১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত অর্ধশত থেকে এক রান দূরে থাকতে থামেন নাজমুল শান্ত। ৫৪ বলে ৪টি চারের মারে সাজান নিজের ইনিংস। পাঁচ নম্বরে নেমে আফিফ হোসেন ধ্রুবও ফিরে যান অল্পেই।

তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়ে নেন মোসাদ্দেক ও রাব্বি। দুজন মিলে মাত্র ৯৭ বলে গড়েন ১২৬ রানের জুটি। ৫ চার ও ২ ছক্কার মারে মাত্র ৪৬ বলে ৫৬ রান করে আউট হন রাব্বি।

তবে শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মোসাদ্দেক। দলকে ৩০৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার পথে মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ৭৪ বলে ৮৫ রানের ইনিংস। ৩টি চারের সাথে ৪টি ছক্কা হাঁকান তিনি।

সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কায়। শেষ চারের ম্যাচগুলো খেলতে পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কায় চলে যাবে বাংলাদেশ দল। গ্রুপ ‘এ’ থেকে শেষ চার নিশ্চিত করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ‘বি’ গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের। ‘এ’ গ্রুপের তিন ম্যাচ শেষে জানা যাবে সেমিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা।

 

সিএসজি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন