বিনোদন

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের নাটকে দ্বৈত চরিত্রে শিমু!

চরিত্রকে ধরে ধরে কাজ করা টিভি নাটকের প্রিয়মুখ সুমাইয়া শিমু আবারও একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করেছেন। একটি নয় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকে তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্র ষাটোর্ধ্ব বীরাঙ্গনা বাণী ইসলাম ও বিদেশফেরত তার মেয়ে সিলভিয়া এই দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। নাটকের নাম জয়তু । ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে

নির্মিত এ নাটকটি প্রচার হবে এসটিভির পর্দায়। রয়েল টাইগার নিবেদিত ছুটির রাতের নাটকের চাঙ্কে প্রচার হতে যাওয়া এ নাটকটি রচনা ও চিত্রনাট্য জহির করিম ও পরিচালনা করেছেন সীমান্ত সজল। নাটকে সুমাইয়া শিমু ছাড়াও অভিনয় করেছেন শম্পা রেজা, রওনক হাসান, ইশরাত চৈতী রায় প্রমূখ। নাটকটি প্রচার হবে ১৪ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাত ৯টায়।

নাটকের গল্পে দেখা যায় বয়কাট চুল মেম সাহেব সিলভিয়া, গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র বাণী ইসলাম অর্থাৎ বর্তমানে পাগলীনির বেশে ষাটোর্ধ্ব বীরাঙ্গনা বানীর একমাত্র মেয়ে। যার কোন পিতৃ পরিচয় জানা নেই। কানাডা প্রবাসী সিলভিয়া তার স্বামী স্ট্যাফিনের সহায়তায় তার মাকে খুঁজে পেয়ে এখন প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে এক মাসের জন্য মায়ের কাছে এসে থাকেন। তার মা স্মৃতিশক্তি হারিয়েছে ফেলেছে। বাণীর বাল্যকালে বন্ধু শায়না বাসায় আসে। শায়নার কাছ থেকে সিলভিয়া তার মায়ের ১৯৭১ সালের ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা জানতে চায়। শায়না বলতে থাকে বান্ধবীর মেয়েকে-
১৯৭১, সময়টা তখন জানুয়ারী থেকে মার্চ, জাফর আর বানীর ভালোবাসার পরিপ্রেক্ষিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে ২৫ মার্চ তাদের বিয়ের দিন ধার্য করা হয়ে থাকে। বিয়ের রাতে ঘটে যত বিপত্তি। অতক্রিতভাবে ২৫ মার্চ কালো রাতে পাক বাহিনী তাদের গ্রামে হানা দেয়।

পাকবাহিনীর মেজর তার সহচর সৈনিকদের নিয়ে সে রাতে জাফর আর বানীর বাসর ঘরে প্রবেশ করে জাফরকে গুলি করে বানীকে টেনে হিচড়ে পাকিস্তানী ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সে কালো রাতের পর আমরা বর্তমানে এসে দেখতে পাই, সেই নববধু বানী এখন ষাটোর্ধ্ব পাগলীনি বাণী। বীরাঙ্গনা নারী। বাসর রাতে নিজের চোখের সামনে স্বামীর অকাল মৃত্যু বানী সহজে মেনে নিতে পারে না। তার উপর পাকিস্তানী ক্যাম্পে নর পিশাচের পাষবিক নির্যাতনে বানী স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলে। এখন সে পাগলীনির বেশে গৃহ বন্ধী অসুস্থ্য নারী দেশের বিজয়ের জন্য নিজের সর্বোস্ব বির্সজন দিয়ে সে এখন আঁধারে নিমজ্জিত। বিজয়ের মাসে হঠাৎ নতুন প্রজন্মের মা তার সন্তান কে নিয়ে যখন সামনা সামনি একজন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেখতে এসে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে বানীর মাথায় জাতীয় পতাকার রাজটীকা বেঁধে দিয়ে যান, তখন তার মাঝে আত্ম উপলব্ধি ফিরে আসে। আঁধারের বুকে সে আলো খুঁজে পায়। নিজের গলায় পুষ্পমাল্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি ও মাথায় জাতীয় পতাকার রাজ টীকা স্পর্শ করে সে অনেকদিন পর হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। তখনো তার কানে শুধুই বেজে উঠে সেই চিরচেনা জাতীয় সংঙ্গীতের সুর। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি।

 

 

সিএসজি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন