বিনোদন

আবার ও চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে কাজী হায়াত

উন্নত চিকিৎসার জন্য আবার ও গতকাল রাত ১০টায় রওনা করেছেন চিত্রপরিচালক কাজী হায়াৎ। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। যাওয়ার আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মারুফের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে আসেন তিনি।

এ সময় লাইভে এসে কাজী হায়াত বলেন, প্রিয় দেশবাসী এবং আমার ভক্তবৃন্দ। আমি জানি সারা দেশে আমার অসংখ্য ভক্ত ছড়িয়ে আছে। আমাকে যারা ভালোবাসেন, যারা আমার শুভকামনা চান, অনেকে তো ফোনও করেন। অনেক সময় ফোন করলে আমি বিরক্ত হই কিন্তু আমি জানি তাদের ভালোবাসা অনেক গভীর। আজ আমি ঢাকার বিমানবন্দরে বসে এই কথাগুলো বলছি। আমার চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি নিউ ইয়র্ক শহরে। জানি না চিকিৎসা কেমন হবে? তবে এ রোগের কথা আমি বা আমার আত্মীয়স্বজনের নিকট শুনিনি। সেটা হচ্ছে আমার ঘাড়ের রক্ত চলাচলের যে রগটি আছে সেটি ব্লক হয়ে গেছে। মাথায় যে রক্ত চলাচলের রাস্তা সেটিও ব্লক হয়ে গেছে। বাংলাদেশে এর চিকিৎসা হয় না। দোয়া করবেন আমি যেন ভালোভাবে ফিরে আসি। যেদিন আপনারা ভোট দেবেন, সেদিন হয়তো আমি নিউ ইয়র্কে অপারেশন টেবিলে থাকবো। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন ভালোভাবে ফিরে আসতে পারি। দেশের জন্য দোয়া করবেন।

যে দেশের জন্য আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি, যে দেশকে আমি ভালোবাসি, যে দেশের কথা আমি সিনেমায় সবসময়ই বলেছি। যে দেশের ক্ষত চিহ্নগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি প্রতিটি সিনেমায়। তিনি আরো বলেন, আমি আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই আরো অনেকদিন। আমার স্বপ্ন আমি আবার আপনাদের মাঝে ফিরে আসবো। আবার বাংলাদেশের মাটিতে এসে (অ্যাকশন-কাট) বলব, পদ্মা সেতু দিয়ে আমার গ্রামের বাড়ি যাব। আমার গ্রাম অনেকদূর এখান থেকে। আমি চলে যেতে চাই আমার গ্রামের সেই মধুমতির পাড়ে। যেখানে আমি শৈশবে-কৈশরে সাঁতার কেটেছি। সেখানে আবার যেতে চাই। পদ্মা সেতু দিয়ে যেতে চাই। সেই আশা যেন আমার পূরণ হয়। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। এছাড়া আমার কিছু বলার নেই। আমজাদ হোসেন চলে গেছেন, আমার প্রিয় এবং কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই হার্ট ও বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন এই পরিচালক। ২০০৪ সালে হার্টে দুটি রিং বসানো হয়েছিল তার। এরপর ২০০৫ সালে ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয় কাজী হায়াতের। এরপর গেলো জানুয়ারিতে পুনরায় হার্টে সমস্যা দেখা দিলে বরেণ্য এই নির্মাতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। তারপর প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদান পান কাজী হায়াৎ। তারপর ৬ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্ক যান কাজী হায়াৎ। নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন