বিনোদন

তাদের জীবনের প্রথম আয়

জীবনের প্রথম আয় নিয়ে একটু বেশিই উচ্ছ্বসিত থাকেন সবাই। প্রথম উপার্জনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মধুর স্মৃতি। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এর বাইরে নন। ক্যারিয়ারের প্রথম রোজগার নিয়ে তাদের মধ্যেও রয়েছে নানা ধরনের মধুর স্মৃতি। তারকাদের প্রথম আয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে এ প্রতিবেদন।

চঞ্চল চৌধুরী

আমার বড় ভাই একজন ডাক্তার, গ্রাম থেকে ঢাকাতে এসে আমি তার সঙ্গেই থাকতাম। আমি আমার বড় ভাইয়ের কাছে খরচের টাকা চাইতাম না। তিনি প্রতিদিন বলতেন টাকা নেয়ার জন্য, কিন্তু সহজে নিতাম না। বাড়ি থেকে যে টাকা এনেছিলাম সেখান। থেকেই খরচ করতাম। আমি ঢাকাতে যে মাসে এসেছিলাম ঠিক তার পরের মাস থেকে টিউশনি করা শুরু করি। প্রথম মাসের। বেতন ছিল ১২০০ টাকা। এটা ১৯৯৩ সালের ঘটনা। অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রকে সবগুলাে সাবজেক্ট পড়াতাম। সব সময় আমার একটা ইচ্ছা ছিল যে আমি আমার প্রথম ইনকামের টাকা দিয়ে মাকে একটা স্বর্ণের চেইন কিনে দেবে। প্রথম মাসের টাকা দিয়ে তাে আর পারিনি। তাই প্রথম এবং পরবর্তী চার মাসের বেতন জমিয়ে ৬ হাজার টাকা দিয়ে মাকে আমি একটা স্বর্ণের চেইন কিনে দিই। ওটাই আমার প্রথম ইনকাম ও মায়ের জন্য কিছু করা। যার আনন্দটা অনেক ছিল আর এখনাে অনুভব করি।

শাবনূর

ঈদের দিন আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া সালামিই ছিল আমার প্রথম রোজগার। যদিও এটাকে রোজগার বলাটা ঠিক হবে না। তখন দিন শেষে কত টাকা সালামি বাবদ আয় হল সেটি কাজিনদের নিয়ে হিসাব করতে বসতাম। যার টাকা বেশি হতো সে আমাদের খাওয়াত। দারুণ মজা করতাম ওই টাকা নিয়ে। এরপর চূড়ান্ত আয়ের পথে নামি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। প্রথম ছবি ‘চাদনী রাতে’র মাধ্যমে প্রথম উপার্জনের অভিজ্ঞতা পাই। ছবি করার জন্য যখন টাকা প্রথম হাতে পাই তখন স্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল নিজের কাছে। যদিও টাকার পরিমাণ খুব একটা বেশি ছিল না। তবে ওই টাকা পাওয়ার মতো আনন্দ পরবর্তীতে লাখ লাখ টাকা আয়ের মধ্যেও পাইনি।

আরফিন শুভ

আমার জীবনের প্রথম ইনকাম ২০০৩ সালে। একটি ফ্যাশন শাে করে পেয়েছিলাম ২শ টাকা। আর আমি এটাও জানতাম যে। আমার সঙ্গে অন্য আরাে যারা কাজ করছে তারা সবাই ২ হাজার টাকা করে পাচ্ছে। আর আমি পাচ্ছি মাত্র ২শ টাকা। আমাকে বলা হয়েছিল যে এটা তােমার আসা যাওয়ার খরচ।

নিপুণ

আমি মস্কোতে লেখাপড়া করা অবস্থাতেই প্রথম ইনকাম করেছিলাম। এটা ১৯৯৯ সালের কথা। সপ্তাহে তখন আমি দুদিন কাজ করতাম শনি ও রােববার। আমি চাকরি করতাম নেসক্যাফে কোম্পানিতে। এখানে চাকরি করে আমি ২৫০ গ্রাম ডলার পেতাম। ২৫০ ডলার তখন আমার কাছে ২ কোটি ডলারের মতাে ছিল। কারণ আমি তখন মাত্র একজন ছাত্রী তার ওপর বিদেশের মতাে জায়গা। একটি বাঙালি মেয়ে ২৫০ ডলার উপার্জন করছে চাকরি করে এটা আমার কাছে অনেক বড় একটা পাওয়া ছিল। ওই টাকা দিয়ে মােটামুটি নিজের প্রয়ােজনীয় পােশাক ও প্রসাধনী কিনতাম।

বিদ্যা সিনহা মিম

লাক্স সুপার স্টার হওয়ার পর আমি প্রথম একটি নাটকে কাজ করি। নাটকের নাম ছিল চলনা বৃষ্টিতে ভিজি। নাটকটিতে কাজ করে আমি পারিশ্রমিক হিসাবে ২০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। এই ২০ হাজার টাকাই ছিল আমার কাজ করে প্রথম ইনকাম। অনেক ভালাে লাগছিল তখন। এমন তাে আর আগে কখনাে পাওয়া যায়নি। স্কুলে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে কিছু টাকা পেয়েছিলাম কিন্তু সেটা তাে আসলে ইনকাম ছিল না।

মম

আমার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে। আমি তখন ক্লাস সিক্সের ছাত্রী। সেখানে নাচের একটি অনুষ্ঠান করতাম। অনুষ্ঠানটির নাম কুলির সপ্তাহ। আমি তখন নাচ শিখতাম কবিবল ইসলাম রতন এবং সিজু মাহামুদ এ দুজনের কাছে। এ দুজনের কাছে নাচ শিখতাম আর পাশাপাশি কুলির সপ্তাহে অনুষ্ঠানে নাচতাম। একটি অনুষ্ঠানে আমাকে নাচতে হয় আর যার জন্য অনুষ্ঠানের। পরিচালক আমাকে কিছু সম্মানি দিয়েছিল। সম্মানি ছিল ৬শ টাকা। এটাই আমার প্রথম নিজে কিছু করে পাওয়া।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন