সারাদেশ

ভৈরবে গণপিটুনির শিকার পুলিশের দুই এস আই!

অনলাইন ডেস্ক ||

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সজীব নামের এক শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই উপপরিদর্শক এস আই আবুল খায়ের ও এস আই আজিজুল হক। শনিবার রাত ৮টার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের শুম্ভুপুর পাক্কারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সজীবের বাবা সাব মিয়ার দাবি, মদের বোতল দিয়ে তাঁর ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে পুলিশ। তাঁর ছেলে ভৈরব সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। শনিবার সন্ধ্যায় সজীব তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঈদের কেনাকাটা করতে ভৈরব বাজারে যায়। ফেরার পথে চান্দভান্ডার দরবার শরিফের সামনে থামিয়ে সজীবের শরীরে মদ ছিটিয়ে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করে পুলিশ।
এ সময় সজীব মোটরসাইকেল নিয়ে কৌশলে তাঁর মহল্লা শহরের পাক্কারমাথা এলাকায় চলে আসেন। কিন্তু এসআই আবুল খায়ের ও আজিজুল হক সজীবের পিছু নিয়ে আসেন। এ সময় তাঁরা সজীবকে জোর করে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে বিষয়টি স্থানীয়দের চোখে পড়ে। তাঁরা সাদা পোশাকে থাকায় স্থানীয় লোকজন ছিনতাইকারী ভেবে তাদের গণপিটুনি দেন। গণপিটুনির এক ফাঁকে এসআই আজিজুল হক ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
খবর পেয়ে ভৈরব থানার এসআই মোখলেছুর রহমান রাসেল ও অভিজিৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এস আই আবুল খায়েরকে উদ্ধার করেন। একইসঙ্গে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে মোহাম্মদ আলী (৪০), মো. মিজান মিয়া (৪২), মো. ইয়াকুব (৩৮) ও মো. রহিম মিয়া (৪০) নামের চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভোর রাতে সেহরি খাওয়ার সময় সজীবের বাবা সাব মিয়াকেও আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আবুল খায়ের ও আজিজুল হক দাবি করেন, শনিবার রাতে সজীবকে সন্দেহ হলে তাঁরা তাঁকে তল্লাশি করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে একটি মদের বোতল পাওয়া যায়। পরে সজীবকে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে তিনি কৌশলে মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় চলে যান। পরে তাঁকে আটক করতে গেলে স্থানীয়রা ভুল বুঝে অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এদিকে সজীবের শরীরে মদ ছিটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন দুই এসআই।
এ প্রসঙ্গে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। পরে সেটির অবসানও হয়েছে। আটককৃতদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রেজওয়ান দীপু জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীর শরীরে মদ ছিটানোর বিষয়টি সাধারণ জনগন মেনে নিতে পারেনি এবং পুলিশের সিভিল পোশাকে এরকম কর্মকান্ড খুবই দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন এমনটিই জানা যায় স্থানীয় সূত্রে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন