সাহিত্য

সবকিছু সেই আগের মতোই আছে, শুধু নেই বাংলা সাহিত্যের বাদশা হুমায়ূন আহমেদ

নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক এবং বাংলা চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকের নন্দিত নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নূহাশপল্লীতে রোববার পালিত হয়েছে।

সবুজে সবুজময় শালবনের ভেতর বাংলা সাহ্যিতের কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় নুহাশপল্লী। প্রিয় লীলাবতী দিঘির স্বচ্ছ জল, ভূতবিলাস, বৃষ্টিবিলাস, ওষুধি বাগান, লিচুতলা সবকিছু সেই আগের মতোই আছে। শুধু নেই বাংলা সাহিত্যের ভিন্ন ভুবনের কারিগর হুমায়ূন আহমেদ।

jafor-768x490
সবুজে সবুজময় শালবনের ভেতর বাংলা সাহ্যিতের কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় নুহাশপল্লী। প্রিয় লীলাবতী দিঘির স্বচ্ছ জল, ভূতবিলাস, বৃষ্টিবিলাস, ওষুধি বাগান, লিচুতলা সবকিছু সেই আগের মতোই আছে। শুধু নেই বাংলা সাহিত্যের ভিন্ন ভুবনের কারিগর হুমায়ূন আহমেদ।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাতে নূহাশপল্লীতে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। বোরবার ভোরে হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নূহাশ পল্লীতে আসেন। সকাল সোয়া ৯টার দিকে শাওন ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ’র কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ করেন ও মোজানাতে অংশ নেন। পরে নূহাশপল্লী প্রাঙ্গণে কাটা হয় জন্মদিনের কেক। এসব অনুষ্ঠানে নুহাশ পল্লীর কর্মচারীরাও অংশ নেন।
unnamed-26
পরে নুহাশপল্লীতে স্থাপিত হুমায়ুন ম্যুরালের সামনে আপেল তলায় কেক কাটেন তার দুই ছেলে নিষিদ ও নিনিত। এসময় শতাধিক ভক্ত, গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী অভিনেত্রী ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ খুব সহজভাবে তিনি তার জন্মদিন পালন করতেন। তিনি জন্মদিনের আনন্দটা শেয়ার করতেন। তিনি অন্যের আনন্দটা নিজের মাঝে শেয়ার করতেন। এই আনন্দের মাঝে খুব সুক্ষ্মভাবে একটা দু:খবোধ ছিল যে মৃত্যুর দিকে আরও একটি বছর এগিয়ে যাওয়া।

হুমায়ুন স্ত্রী শাওন বলেন, হুমায়ুন আহমেদকে প্রকৃতভাবে জানতে হলে তাঁর একটা, দুটা বই পড়লে হবে না। তার সবগুলো বই পড়তে হবে। কারণ তার দর্শনের সংমিশ্রণগুলো একটি বইতে পাওয়া যাবে না।

সকাল পৌণে ১০টার দিকে হুমায়ূন আহমেদ’র ভাই ড. অধ্যাপক মো. জাফর ইকবাল, ছোটভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব এবং তিন বোন সুফিয়া হায়দার, মমতাজ শহীদ, রোকসানা আহমেদসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা নুহাশপল্লীতে আসেন এবং কবর জিয়ারত করেন।

ড. জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের জানান, তাঁর শূন্যতাটা আমরা খুব অনুভব করি। প্রতিমুহূর্তেই অনুভব করি। শুধুআমরা পরিবারের মানুষজন না অনেক মানুষও তার অভাবটা অনুভব করে। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের। তবে তাকে নিয়ে তো অনেকে বাণিজ্য হচ্ছে। হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টিগুলো এখন দেশের বাইরেও ভিন্ন ভাষায় প্রচার হচ্ছে। এটা ভাল যে মানুষ তাকে আরও ভালভাবে এবং বেশি জানতে পারছে। তবে সেগুলো নিয়ম মেনে প্রচার হচ্ছে কিনা? এটা আমার জানার বিষয়।

তিনি বলেন, হুমায়ুন আহমেদের উত্তরাধিকার হল তার সন্তানেরা। তারা রয়েলিটি পাচ্ছে কিনা বা তাদের অনুমতি নিয়ে প্রচার হচ্ছে কিনা সেগুলো দেখা দরকার। কারণ হুমায়ূন আহমেদের ইনটেলেকচুয়াল যে প্রপার্টি আছে তার মালিক তো আসলে তারা।

তার অপর ভাই আহসান হাবীব ও বোন সুফিয়া হায়দার জানান, হুমায়ূন আহমেদ আমাদের সমস্ত পরিবারের সমস্ত আনন্দ উৎসবের প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। এজন্য আমরা তাকে বেশি মিস করি। নূহাশ পল্লীতে যতবার এসেছি তার সঙ্গে এসেছি। এখন তাকে ছাড়া আসতে হচ্ছে।

বোন সুফিয়া হায়দার বলেন, জন্মদিনেও আমরা আনন্দ করতে পারিনা।

এদিকে সকাল থেকেই হুমায়ূন আহমেদ’র ভক্তরা নুহাশপল্লীতে আসছেন। তাদের অনেকেই প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দেন এবং নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। আবার অনেকে ঘুরে ঘুরে দেখচ্ছেন নুহাশ পল্লী।

উল্লেখ্য, লেখক হুমায়ুন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ৬৪ বছর বয়সে আমেরিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে ২৪ জুলাই গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকাস্থিত নুহাশ পল্লীর লিচুগাছ তলায় প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের মরদেহ দাফন করা হয়।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন