খেলাপ্রধান সংবাদ

ফিরেছেন আমির, আসলেই কি ‘ফেরা’ হয়েছে?

ক্রীড়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোহাম্মদ আমির ফিরেছেন বেশ কিছুদিন হলো। গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তন হয়েছে পাকিস্তানি এই বাঁহাতি পেসারের। এর মধ্যেই গোটা বিশেক আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলা হয়ে গেছে তাঁর। কিন্তু সেগুলোতে তাঁর পারফরম্যান্স প্রশ্নটা তুলে দিল, আসলেই কি ‘ফিরেছেন’ আমির?

স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য পাঁচ বছরের শাস্তি পেয়েছিলেন আমির। সেটি কাটিয়ে গত বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছিলেন। সেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সুযোগ মেলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল)। ওখানে ইঙ্গিত দিলেন পাঁচ বছর নিষিদ্ধ থেকেও ধার হারাননি খুব একটা। বিপিএল থেকে জাতীয় দলের দরজা খুলে যেতেও সময় লাগেনি তাঁর। নতুন অধ্যায়ের ‘অভিষেক’ ম্যাচে এক উইকেট, সঙ্গে দলের জয়; একেবারে মন্দ বলা যাচ্ছিল না আমিরের প্রত্যাবর্তন।
কিন্তু সময় যত পেরিয়েছে ততই যেন ধার হারিয়ে ফেলেছেন আমির। ফিরে আসার পর ১১ টি-টোয়েন্টিতে পেয়েছেন ১১ উইকেট। ভারতের সঙ্গে খেলা দুটি ম্যাচেই শুধু আমিরকে ‘আমির’ বলে মনে হয়েছে। বাকি ম্যাচ গুলোতে তাঁর ছায়াকেই দেখেছে ক্রিকেট। নিষিদ্ধ হওয়ার আগে টি-টোয়েন্টিতে ১৮ ম্যাচে ১৯.৮৬ গড়ে পেয়েছিলেন ২৩ উইকেট। আর ফেরার পর ১১ ম্যাচে আমিরের গড় ২৭.১৮। ফেরার পর স্ট্রাইক রেট ২২.৯! অথচ নিষিদ্ধ হওয়ার আগে এই বাঁহাতি পেসারের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬.৯।
টেস্টে আমির কেমন করেন তা নিয়ে আগ্রহ ছিল সবার। বিশেষ করে লর্ডস টেস্ট দিয়ে প্রত্যাবর্তন হওয়ায় আগ্রহটা আকাশ ছুঁয়েছিল। এই লর্ডস টেস্টেই ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন স্পট ফিক্সিংয়ের ফাঁদে দিয়ে। সেই লর্ডসেই স্বপ্নের মতো প্রত্যাবর্তন হতেও পারত আমিরের। সেটি হয়নি, আমির পুরো সিরিজে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতোও কিছু করতে পারেননি। পাকিস্তান সিরিজ ড্র করলেও হতাশ করেছেন। ৪ টেস্টের ৮ ইনিংসে ১২ উইকেট; ৪২.৪১ গড় ও ৮১.২ স্ট্রাইক রেট আমিরের সঙ্গে তো যায় না! পেস বান্ধব উইকেটে যেখানে রাহাত আলী কিংবা সোহেল খানরাও ম্যাচ জেতানো বোলিং করেছেন, সেখানে পুরো সিরিজের কোনো ইনিংসেই ২ উইকেটের বেশি পাননি আমির।
আমিরের এই দুর্দশা ওয়ানডেতে বোঝা গেছে আরও ভালো মতো। জানুয়ারির নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ওয়ানডেতে ফিরেছেন। দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেটও পেয়েছিলেন। কিন্তু পরের ৪ ওয়ানডেতে পেয়েছেন মাত্র ২ উইকেট। এ বছর ৬ ওয়ানডেতে ৭ উইকেট আমিরের। ৩১.১৪ গড়, স্ট্রাইক রেট ৪০.৪! অথচ একই আমির নিষিদ্ধ হওয়ার আগে ১৫ ম্যাচেই ২৪ গড়ে ২৫ উইকেট পেয়েছিলেন, তখন প্রতিটি উইকেটের জন্য মাত্র ৩১.৫টি বল খরচ করতে হয়েছিল তাঁকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম তিন ওয়ানডেতে ১৪৪ রান দিয়ে ১ উইকেট। এমন বোলিং চতুর্থ ওয়ানডের দল থেকে ছিটকে দিয়েছে আমিরকে।
এখন প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে, আমিরকে ফেরাতে একটু তাড়াহুড়া কি করে ফেলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড? ফিক্সিংয়ের দোষে অভিযুক্ত অন্য দুজন মোহাম্মদ আসিফ ও সালমান বাটকে যেখানে আরও এক মৌসুম স্থানীয় ক্রিকেট খেলতে বলা হয়েছে, সেখানে শাস্তি শিথিল করে ফেরানো হয়েছিল আমিরকে। কিন্তু আমির কি ধার হারিয়ে ফেলেছেন? প্রশ্নটা এখন উঠেই যাচ্ছে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন